চীন ও আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৫

8

চীন ও আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে চীনে নিহত হয়েছেন ৭ জন। আর আফগানিস্তানে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ৮ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার চীনের সিচুয়ানে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি ২০১৭ সালের পর এ অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। কম্পন অনুভূত হয়েছে চেংদু এবং চীনের অন্যান্য প্রাদেশিক রাজধানীতে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির বরাতে রয়টার্স জানায়, ভূমিধসের কারণে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি কিছু রাস্তা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কিছু এলাকা। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ৫০ কিলোমিটারের (৩১ মাইল) মধ্যে বাঁধ এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টার জানিয়েছে, চেংদু থেকে ২২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পাহাড়ি শহর লুদিং এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ সিচুয়ান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে মোট ৩৯ হাজার এবং ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। সিচুয়ানে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ২০০৮ সালের মে মাসে। ওয়েনচুয়ান কেন্দ্রিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়। এদিকে উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে সোমবার ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।

এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাখতার-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ। যদিও দেশটির দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম হাক্কানি বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে যে ভূমিকম্পে ৬ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এদিন ভোরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদের কাছে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে গত ২২ জুন ৬ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে আফগানিস্তানে। এতে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, আহত হন দেড় হাজারের বেশি। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএসএসসি) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫১ কিলোমিটার। এর তীব্রতা উৎপত্তিস্থল থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরেও অনুভূত হয়।