চিঠি

15

রেডিও মহানন্দাও আমার জন্য কম কিছু করেনি। আমার মতো এক অজোপাড়া গ্রামে পড়ে থাকা হিমুকে চিনিয়েছে চাঁপাইবাসীর কাছে। মানুষ এখন আমাকে জানে, দেখা হলে সালাম দেয়, জানতে চাই কেমন আছি, সেলফি তুলে। তারপরও মানুষ জানে, সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, চাহিদা বদলায়। সময়ের বালুচর হতে, সুসময় যখন চলে যায়, তখন দুঃসময়গুলো যেন চিক চিক করতে থাকে। তেমনই আমার জীবনপ্রবাহকে কিছুটা সময় স্মরণের উপকূলে নিয়ে যায় হঠাৎ করেই।
একটা সময়- যখন হাজারটা মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকত, রেডিও মহানন্দায় আমার লেখাগুলো শোনার জন্য। কিযে ভালো লাগত। তাদেরকে আমি কখনো আমার ভক্ত বলি না। কারণ, আমি নিজেই তাদের ভক্ত। একজন ব্যাংকের কর্মকর্তা যেমন প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা দেখার পর তার কাছে মূল্যহীন শুকনো পাতার মতো মনে হয়। অথচ, মাস শেষে পারিশ্রমিকের সামান্য কটা টাকাই তার কাছে আসল চেহারার টাকা মনে হয়।
মনের পরিধিতে, যারা আজও আমার সেই লেখাগুলোকে মনে রেখে আজও আমায় স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তারা অবশ্যই আমার খাঁটি মনের বন্ধু। তাদের তরে কৃতজ্ঞতা আজীবন। কারণ বন্ধুগুলো আমার সংখ্যায় সামান্য হলেও, মাস শেষের ওই পারিশ্রমিকের আসল টাকার মতো, আসল বন্ধু। আর সেই সামান্য বন্ধুদের যে কারিগর একই মালায় গেঁথেছে তার নাম রেডিও মহানন্দা।
রাজ্যের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই রেডিও মহানন্দাকে। তুমি ছিলে বলেই বন্ধুদের এমন ভালোবাসা পাই, তুমি ছিলে বলেই প্রতিদিন তোমাকে শুনেই ঘুমাতে যাই। প্রিয় রেডিও মহানন্দা, তোমাকে আমি মেসির মতোই ভালোবাসি। শুভ জন্মদিন রেডিও মহানন্দা।

ইসলাম মানিক হিমু : বুলনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ