চার জেলায় বজ্রপাতে ৮ জন নিহত

14

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে, সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে বাবা-ছেলে, পাবনায় দুই ছেলে ও বাবাসহ চারজন, ময়মনসিংহে একজন ও নেত্রকোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জ: তাহিরপুর উপজেলায় মাছের খামারে বজ্রপাতে বাবা-ছেলে নিহত হয়েছে। তাহিরপুর থানার এসআই রাপি আহমদ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামে বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের নিয়াজ আলীর ছেলে খামারমালিক হারিদুল ইসলাম (৪৭) ও হারিদুলের ছেলে তারা মিয়া (১২)।
স্থানীয়রা জানান, হারিদুল ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে তার চিংড়ির খামার দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় খামারে বজ্রপাত হলে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এসআই রাপি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
পাবনা: বেড়া উপজেলায় পাট জাগ দেয়ার সময় বজ্রপাতে দুই ছেলে ও বাবাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফিফ আনান সিদ্দিকী জানান, চাকলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের জুয়েল সরদারের ছেলে মোতালেব সরদার (৫৫), মোতালেবের দুই ছেলে ফরিদ উদ্দিন (২২), শরিফ উদ্দিন ও একই গ্রামের ফকির উদ্দিনের ছেলে রহম আলী (৫৫)। ইউএনও আফিফ স্থানীয়দের বরাতে বলেন, তারা নিজেদের বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বৃষ্টির মধ্যে পাট জাগ দেয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নেত্রকোনা: গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক (২২) ওই ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
মোজাম্মেল হক বলেন, সকালে গরুকে ঘাস খাওয়াতে মাঠে নিয়ে যাচ্ছিলেন এনামুল হক। পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে চৈইত কোচ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার বড়বিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়বিলা বিলে চৈইত ও তার বড়ভাই মনু বর্মন মাছ শিকার করছিল। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই চৈইতের মৃত্যু হয়। এ সময় মনু আহত হয়েছেন। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।