চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জে শিলাবৃষ্টি : ২৫৬৩৫ জন কৃষকের ৭৬৪৬ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

35

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বৃষ্টি না হওয়ায় আম ঝরে পড়ছিল। ব্যাপসা গরম আর তীব্র তাপমাত্রায় জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। এমন অবস্থায় গত রবিবার রাত সোয়া ৭টার দিকে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা ঝড়সহ বৃষ্টি হয়। কোনে কোনো এলাকায় প্রচুর শিলা বৃষ্টিতে আম ও বোরোধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম গৌড় বাংলাকে বলেন, জেলায় শিলাবৃষ্টিতে ২৫ হাজার ৬৩৫ জন কৃষকের ৭ হাজার ৬৪৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে আমের ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৭৯৫ হেক্টর, বোরোধন ১ হাজার ৫৭৫ হেক্টর, সবজি ২৭০ হেক্টর, পাট ১ হেক্টর এবং ভূট্টার ক্ষতি হয়েছে ৫ হেক্টর জমির। তিনি জানান, জেলা সদরে ১২মিলি মিটার, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০ মিলি মিটার, ও নাচোল উপজেলায় ৫ মিলি মিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায় বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন-এটাকে আমরা এখনই ক্ষতি বলছিনা। ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কানিজ তাসনোভা গৌড় বাংলাকে বলেন, সদর উপজেলায় ২ হাজার ১২০ জন কৃষকের ৫২৫ হেক্টর জমির বোরো ধান, ৮৮৫ জন কৃষকের ২৯৫ হেক্টর জমিতে চাষ হওয়া আমের ফলন, ৬০০ কৃষকের ৭৫ হেক্টর জমির শাকসবজি, ২৫ জন কৃষকের ৫ হেক্টর ভূট্টার জমি, ও পাঁচজন কৃষকের ১ হেক্টর জমির লিচু শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বারঘোরিয়া, শাহজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা, সুন্দরপুর, দেবিনগর, ঝিলিম, মহারাজপুর, রানীহাটি, ইসলামপুর ও বালিয়াডাঙ্গায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম গৌড় বাংলাকে বলেন-শিবগঞ্জ উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৫শ হেক্টর আম বাগান, ১ হাজার ৫০ হেক্টর বেরোধান ও ১৯৫ হেক্টর শাকসবজি। তিনি আরো বলেন-বর্তমানে মাঠেমাঠে ঘুরছি এবং ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছি। আক্রান্ত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে নয়ালাভাঙ্গা, ছত্রাজিতপুর, পাঁকা, উজিরপুর, ঘোড়াপাখিয়া, দুর্লভপুর, শিবগঞ্জ পৌরসভা, মনাকষা ও বিনোদপুর।
শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম গৌড় বাংলাকে বলেন, দুর্লভপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় শিলা বৃষ্টিতে ২০ ভাগ আমের ক্ষতি হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে এই বৃষ্টি আমের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে।
ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব গৌড় বাংলাকে বলেন-এবার সব মিলিয়ে মাত্র ৫০ ভাগ আম গাছে কমবেশি আম ছিল। তার মধ্যে থেকে এই শিলাবৃষ্টিতে ১৫ থেকে ২০ ভাগ আমের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে বেশকিছু আম ঝরে পড়েছে এবং গাছে থাকা আমেরও ক্ষতি হবে। তিনি কৃষি বীমা চালুর দাবি জানান।
বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসর মার্চেন্টা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ গৌড় বাংলাকে বলেন-রবিবার রাতের শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে ৩৫ ভাগ আমের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বোরোধান ও ইটভাটার প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে ইটভাটাগুলোর কাঁচা ইট  নষ্ট হয়ে গেছে।