চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর নির্বাচন : মোবাইল প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী লিটনের সংবাদ সম্মেলন

35

আগামী ৩০ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল প্রতীকের কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা শহরে ফুড ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে সামিউল হক লিটন বলেন- আগামী ৩০ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে অংশগ্রহণ করছি। আমার প্রতীক মোবাইল ফোন। গত পৌরসভা নির্বাচনে আমি নিজেও সরকারি দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলাম। তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত এমপিও ছিলেন। সবধরনের সক্ষমতা থাকার পরও অনিয়ম বা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ আমরা করিনি। শুধু তাই নয় এর আগে কখনই চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনকেন্দ্রিক এত সহিংসতা হয়নি।
তিনি বলেন- গত ২ নভেম্বর রাতে সোহেল ও রিপন নামে দুই যুবককে পৌর এলাকার বটতলা হাট এলাকায় মারধর করা হয়। আহত সোহেলকে রাস্তার বিদ্যুতের পোলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এর আগে ২৫ অক্টোবর রাতে একই এলাকায় জাহিদুল ইসলাম নামে আমার এক কর্মীকে একই কায়দায় মারধর করা হয়েছে। ১২ নভেম্বর রাতে শহরের বিশ্বরোড মোড়ে মিলন নামে এক কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়। গত ১৯ নভেম্বর দুলাল নামে আমার বন্ধুকে কিছু সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এই হামলায় হেলমেট পরে শহরের চিহ্নিত বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। ১৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে ৪নং ওয়ার্ডের দিদার নামে এক কর্মীর ওপর দেশী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়লে প্রাণে রক্ষা পায় দিদার।
লিটন বলেন, গত ২৬ অক্টোবর নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে আমার ৯টি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ২০ নভেম্বর শহরের বিদিরপুরে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। ২১ নভেম্বর রাতে শহরের মসজিদপাড়া, শিবতলা মোড় ও পুরাতনবাজারে তিনটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। এদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। আমরা দেখতে চাই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। দুষ্কৃতিকারী কোনো দলের হতে পারে না। এ বিষয়ে আমি জেলা নির্বাচন অফিসকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমি প্রত্যাশা করি নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তিনি বলেন- সম্প্রীতির শহরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। জনগণকে সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটপ্রদানের সুযোগ করে দিতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটি আমার বিশ্বাস।
সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি ঘটনা যাচাই করে লেখনীর মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সামিউল হক লিটন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে উপরমহল পর্যন্ত যাবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় দুলহান উদ্দিন দুলাল, ওবায়দুল আজিম রিংকু ও কামরুল হাসান জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।