চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বন্ধ থাকা ট্রেন চালুর দাবি

40

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলাচলকারী ট্রেনগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় চালু করা হলেও পদ্মা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসের সংযোগকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুটি শাটলসহ লোকাল ট্রেনগুলো চালু করা হয়নি। এর ফলে যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাদের অধিক ভাড়া গুণতে হচ্ছে। আরামদায়ক নিরাপদ যাত্রা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসী।
উল্লেখ্য, জেলাবাসী বিশেষ করে নাগরিক কমিটির আন্দোলন ও তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন আধুনিকায়ন, রেললাইন সংস্কার এবং আমনুরাতে বাইপাশ রেললাইন স্থাপন করে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়। প্রথমে আন্তঃনগর পদ্মা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দুটি শাটল ট্রেন চালু করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা সেই ট্রেন দুটিতে রাজশাহী গিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনযোগে ঢাকা যাতায়াত করতেন। পরে দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত সরাসরি একটি আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস ভোর ৬টায় চালু করা হয়। লোকাল ট্রেনগুলো আগে থেকেই চালু ছিল। কিন্তু বাধ সাধে মহামারি করোনা ভাইরাস। সংক্রমণ এড়াতে সকল ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বনলতা চালু করা হলেও দুটি শাটলসহ অন্য লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ রাখা হয়। এর প্রেক্ষিতে নাগরিক কমিটিসহ রাজনৈতিক দল বন্ধ রাখা ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বন্ধ থাকা শাটল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।
বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপস্টশন প্ল্যাটফরমে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেনথ রাজশাহী-ঢাকাগামী পদ্মা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের সংযোগকারী শাটল ট্রেন দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে যাত্রী নিয়ে গিয়ে পদ্মা এক্সপ্রেস এবং অন্যটি রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে গিয়ে রাজশাহীতে ধূমকেতু এক্সপ্রেসে তুলে দিত। করোনা মহামারির সময়ে সেই দুটি ট্রেনসহ অন্য লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, অদ্যবধি ট্রেনগুলো চালু না করায় অধিক ভাড়া দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষকে রাজশাহী ও ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তারা বলেনÑ আমাদের জেলা থেকে চলাচলকারী ট্রেনগুলো অন্য জেলায় চলাচল করছে। অথচ এই জেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ ট্রেনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া আমাদের জেলার জন্য বরাদ্দ বনলতা এক্সপ্রেসের নতুন বগিসহ ট্রেন এ জেলায় না দিয়ে পুরাতন ট্রেন দিয়েই বনলতা এক্সপ্রেস চলছে। অবিলম্বে নতুন বগি-সংবলিত বনলতা এক্সপ্রেস জেলা থেকে চালানো ও পর্যাপ্ত টিকেটের বরাদ্দ দেয়ার দাবিসহ জেলাবাসীর সুবিধার্থে বন্ধ রাখা ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানান তারা।
সদর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা বাবলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেনÑ জেলা জাসদের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ রুনু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সহসভাপতি নিয়ামুল হক, জেলা শ্রমিক জোটের আহ্বায়ক সাজেমান আলি, জেলা যুবজোটের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও জেলা ছাত্রলীগের (জাসদ) সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ।