চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটির সভা : সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষন্নু রাখার আহ্বান বক্তাদের

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক-সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের সকলের সামাজিক দায়িত্ব। আর এই ঐতিহ্যকে ধরতে রাখতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ছাত্র, শিক্ষক, ইমাম, আলেম, পুরোহিত, সুশীল সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন, উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির সভায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যকত্ করেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। আলোচনায় অংশ নেন কমিটির উপদেষ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ)আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আশরাফুল হক। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক এমপি মু. জিয়াউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শংকর কুমার কুন্ডু, একই কলেজের অবসপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মাহমুদার রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ, জেলা ওলামালীগের সভাপতি মাওলানা সোহরাব আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফ জামান আনন্দ।
সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকিউল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা সামাজিক-সম্প্রীতি কমিটি জেলায় সম্প্রীতি-সমাবেশ, উদ্বুদ্ধকরণ সভা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনকে সুসংহত রাখাসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনকে অক্ষুন্ন রাখতে হবে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধকল্পে এ কমিটি প্রয়োজনীয় প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে। সামাজিক-সম্প্রীতি কমিটি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সকল উপাসনালয়ের নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা প্রদান করবে। সকল ধর্মীয় উৎসব যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্যাপনের পরিবেশকে অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। বিভিন্ন ধর্মের শান্তি ও সৌহার্দের বাণীসমূহ ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।