চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫৯ স্কিম বাস্তবায়ন করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

9

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম অংশ মানসম্মত শিক্ষা। আর সেই শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা-সংবলিত শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। আর এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় সারাদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশ্বমানের আধুনিক সুবিধা-সংবলিত শিক্ষা অবকাঠামো। শিক্ষা ক্ষেত্রের এ উন্নয়নে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ হিসেবে খ্যাত আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা।
গত পাঁচ বছরে বদলে গেছে এ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেহারা। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে নবনির্মিত আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন মডেলের পরিবেশবান্ধব নান্দনিক সব বহুতল ভবন। সেইসাথে চলমান রয়েছে আরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক, প্রশাসনিক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল ভবন নির্মাণ ও পুরাতন প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের কাজ।
গত পাঁচ বছরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ৩৪৪ কোটি ৯৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫৯টি স্কিম বাস্তবায়ন করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে বাস্তবায়িত এসব স্কিমের মধ্যে “শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজসমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ২ তলা অ্যাকাডেমিক কাম-পরীক্ষা হল ১টি, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হোস্টেল ১টি, ২ তলা প্রশাসনিক ভবন ১টি, প্রশাসনিক ভবনের ৩য় ৪র্থ ও ৫ম তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, অ্যাকাডেমিক কাম-পরীক্ষা হলের ৩য় ও ৪র্থ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ ১টি। এতে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম ‘সেসিপ ট্রেঞ্চ-২’ প্রকল্পের আওতায় ৭টি স্কিমে ৩টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ৪টি ১তলা অ্যাকাডেমিক ভবন করা হয়। এর ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এদিকে “১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫ তলা অ্যাকাডেমিক কাম ওয়ার্কসপ ভবন, ৪ তলা প্রশাসনিক ভবন এবং ১ তলা সার্ভিস এরিয়া, পানি সংরক্ষণ, একই সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, গেট এবং গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
“তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬টি ৪ তলা একাডেমিক ভবন, ১৪টি ২ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৪টি ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
“নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৭৭ কোটি ২৬ লাখ ২২ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
“নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৪টি স্কিমে বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
“নির্বাচিত মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৮টি স্কিমে ৪ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৭০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
“সরকারি কলেজসমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪টি স্কিমে (আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ) ২টি ৬ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন, ১টি ৫ তলা ১৬৪ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রাবাস, ১টি ৫ তলা ১৫২ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ১৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।
“সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪টি স্কিমে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২টি ৬ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
অনাবাসিক ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ পূর্বতন কোড-৭০১৬ (মাউশি) প্রকল্পের আওতায় ৮৭টি স্কিমে ২৪টি ও ৬৩টি ১ তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এতে ব্যয় হয়েছে ৫৮ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। অনাবাসিক ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ পূর্বতন কোড-৭০১৬ (কারিগরি ও মাদ্রাসা) এর আওতায় ৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ, ২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও মাদ্রাসায় ২৯টি ১ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান বলেন, “ভবনগুলোয় আধুনিক ক্লাসরুম, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, দৃষ্টিনন্দন রুপটালি ব্যবহার, কালো ও সাদা বোর্ড ব্যবহার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র‌্যাম্প তৈরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় ও বজ্রনিরোধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে।”