চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে দেড় লাখ টাকা অনুদান দিল জেলা পরিষদ

138

06

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে দেড় লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে জেলা পরিষদ। গত কাল মঙ্গলবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে প্রত্যেককে ১ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফতাব আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মইনুদ্দীন মন্ডল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হক, সহকারী সাংগঠনিক কমান্ডার তরিকুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। আলোচনা শেষে সদর উপজেলায় ৬৮ জন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩২ জন, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৮ জন, নাচোল উপজেলায় ১২ জন এবং ভোলাহাট উপজেলায় ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মাঝে ১ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়।
বালিয়াদিঘী গণকবর দখলমুক্ত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলকের পবিত্রতা বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসক মইনুদ্দীন মন্ডলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন-আমি স্থান গুলো পরির্শন করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এসময় তিনি আরও বলেন-জেলা পরিষদের অনেক জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার ধারে জনসাধারণ স্থাপনা তৈরী করে দখল করে নিচ্ছে। জেলা পরিষদের জনবল কম হওয়ায় আমরা কিছু করতে পারছি না। তবে দখলমুক্ত করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমি যে দিন থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন থেকেই আমি একজন মুক্তি যোদ্ধা হিসেবে আপনাদের কথা চিন্তা করে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে আরও করবো।



সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফতাব আলী বলেন-আজকালকার ছেলেমেয়রা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে না। তা নাহলে শহীদের নাম ফলকে উঠে খেলা ধুলা করতো না। তিনি বলেন-দেশ স্বাধীন না হলে আজ আমি এতব পোস্টে চাকরী পেতাম না, আমাকে পশ্চিম পাকিস্তানে কোন মিলকারখানায় কেরানী হয়ে থাকতে হতো। তাই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতেই হবে।
সহকারী সাংগঠনিক কমান্ডার তরিকুল আলম বলেন-বালিয়াদিঘীর মানুষ না বুঝে গণকবর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ জমিতে সাধারণ মানুষকে কবর দিচ্ছে। ফলে ধীরেধীরে বেদল হয়ে যাচ্ছে গণকবর এলাকা। অনুষ্ঠানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপেল্পক্স নিয়েও আলোচনা করা হয়।