চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়নি ধান সংগ্রহ অভিযান,হতাশা বাড়ছে কৃষকের

86

nawabganj

চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ৫ মে থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিলেও ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখনো শুরু হয়নি ধান সংগ্রহ অভিযান। ফলে ধান আবাদের সময় নেয়া ঋণ বা ধারকর্যের টাকা পরিশোধ করতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
চাঁপাইনববগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পাহারপুর গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন, এরই মধ্যে তার জমির উৎপাদতি ধান হাটে বিক্রি করে দিয়েছেন। কত করে ধান বিক্রি করলেন জানতে চাইলে এই কৃষক বলেন, কিছু বিক্রি করেছি ৬৫০ টাকা দরে, আর কিছু ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছি। সরকার কৃষকের কাছে ২৩ টাকা কেজি দরে ধান কিনার ঘোষণা দিয়েছে, তারপরও আপনি কম দামে ধান বিক্রি করে দিলেন কেন। এই প্রশ্নের জবাবে এই কৃষক বলেন,‘‘আরে ভাই গাছে কাঁহাটাল (কাঁঠাল) আর গোপে ত্যাল (তেল) ভ্যাবা হামার ঘে চলবে না, হ্যামার প্যাটে এখন ভোক (ক্ষুধা), বাড়িতে কিস্তির ল্যাগা লোক এ্যাসা বস্যা আছে, ডিলারের দোকানে বিষের টাকা বাকি পড়্যা আছে, এখন সরকার কখন ধান কিনবে ওই আশা কর‌্যা বস্যা থাকলে হবে।’’ তিনি বলেন শুধু আমি না আমাদের পাহাড়পুর গ্রামের প্রায় সব কৃষকই ধান বিক্রি করে দিয়েছে, আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে যা আছে তাও বিক্রি করে দিবে পাইকারের কাছে বা হাটে গিয়ে। জিয়াউর রহমান বলেন, সরকার ধান কিনার সময় ঠিক করতে করতেই দেরি হওয়ায় অধিকাংশ কৃষক বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করে দেয়, ধান সংগ্রহ আরো ১৫ দিন আগে শুরু করলে কৃষকরা লাভবান হত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কৃষক কেতাবুল ভগু জানান, সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের কথা শুনেছেন, তবে তিনি এখনো ধান বিক্রি করতে পারেন নি। তিনি বলেন, যদি সরকারি ভাবে ধান বিক্রি করতে পারি তাহলে,কিছুটা লাভ হবে না হলে উৎপাদন খরচই উঠবে না, বাজারে সাড়ে ৬শ টাকা করে ধান বিক্রি হচ্ছে।
গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের কৃষক এজবুল জানান, এখনো সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের খবর তিনি জানেন না, তিনি বলেন ধান কখন কিনে না কিনে এগুলো জানা যায় না, ধান হাটেই বেচে দিই আমি।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক সারিফুল ইসলাম গেদু বলেন, সরকারি ভাবে ২৩ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহের খররে, হতাশাগ্রস্থ কৃষকরা সে আশার আলো দেখছিলেন, তা ক্রমশই ফিকে হযে আসছে, সাধারণ কৃষকরা বাধ্য হয়েই,নিজেদের ধারকর্য পরিশোধের জন্য কম দামে ধান বিক্রি করছেন হাটে বা বিভিন্ন পাইকারের কাছে। সরকারি ঘোষণার পরও ধান সংগ্রহ শুরু করতে এতো ধীর গতি,আমরা মনে করি প্রকৃত কৃষক এতে করে সুফল পাবেন না। তিনি আরও বলেন-বিগত দিনে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও এসেছে, আমরাও দেখেছি, ধান চাল ক্রয়ের সময় রাজনৈতিক প্রভাবে, অনেক অকৃষক লাভবান হয়েছিল, এবারও হয়তবা তাদের সুযোগ করে দিতেই এই বিলম্ব। আমরা সরকারের কাছে দ্রততম সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের দাবি জানাচ্ছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিযন্ত্রক মহিবুল হক জানান, এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ হাজার ৬৯৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি, ধান সংগ্রহের জোর তৎপরতা চলছে।