চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা ও শিশু মৃত্যু হ্রাসের লক্ষে অ্যাডভোকেসি ও মা সমাবেশ

12

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা ও শিশু মৃত্যু হ্রাস করার লক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার বিকেলে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা এবং সকালে চরঅনুপনগর ও আব্দুল ওদুদ কমিউনিটি ক্লিনিকে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেসি সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ। এতে বক্তব্য দেনÑ সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আস শামস তিলক ও জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন নাহারসহ অন্যরা।
সভায় সিভিল সার্জন জানান, ২০০৯ সালে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ২৫৯ জন। গত ১০ বছরে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে প্রতি লাখ জীবিত জন্মের প্রায় ৯৪ জন। তিনি ল্যানসেটের হিসেব উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশে গড়ে ২১ জন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেনÑ অধিক রক্তক্ষরণ, খিচুনি, বিলম্বিত প্রসব, গর্ভপাত উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেনÑ এছাড়াও অদক্ষদের মাধ্যমে প্রসবের কারণেও অনেক সময় মা বা শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এসময় তিনি জানান, বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাড়িতে প্রসব না করিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সকলকে কাজ করার জন্য বলেন।
অন্যদিকে সকালে পৃথকভাবে চরঅনুপনগর ও আব্দুল ওদুদ কমিউনিটি ক্লিনিকে অনুষ্ঠিত মা সমাবেশে সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আস শামস তিলক, জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন নাহারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের লাইফ স্টাইল, হেলথ এডুকেশন অ্যান্ড প্রমোশন এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আস শামস তিলক জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় প্যাকেজ নং- এলএইচইপি-২০২১-২০২২-এস-১ এর বাস্তবায়ানাধীন কাজের অংশ হিসেবে ‘প্লে ডক্টর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ক্যাম্পেইন ফর প্রমোটিং রিকগনিশন অব নিউ বর্ন ডেঞ্জার সাইন অ্যান্ড কেয়ার সিকিং ফর নিউ বর্ন ইলনেস টু রিডিউস এমএমআর অ্যান্ড আইএমআর বিষয়ে জনসচেতনতামূলক এই অ্যাডভোকেসি সভা ও মা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
অ্যাডভোকেসি সভায় সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, স্কুল শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।