চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টি কমেছে বেড়েছে বজ্রপাতে প্রাণহানি : আবহাওয়া বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা

17

বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ। এর বিরূপ প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা উত্তরাঞ্চলে একদিকে যেমন বৃষ্টিপাত কমেছে, অন্যদিকে বজ্রপাতের কারণে বেড়েছে প্রাণহানিও। এজন্য এ এলাকার মানুষকে প্রচুর গাছ লাগানোর পাশাপাশি আরো সচেতন হতে হবে।
রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আবহাওয়া জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক এক সেমিনারে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন। শিবগঞ্জ পৌরসভার মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭০ সাল থেকে অদ্যবধি বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ৪টি ঋতুÑ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ও বসন্ত লক্ষ্য করা যায়। তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একদিকে যেমন কমেছে, তেমনি অসময়ে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে বজ্রপাতের পরিমাণ ও প্রাণহানির সংখ্যা।
পৌর মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে চলতি বছর। সেই সাথে বেড়েছে শিলাবৃষ্টিসহ অসময়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এজন্য আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং আবহাওয়া সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখতে হবে। তবেই এলাকার ফসলসহ বিভিন্ন সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বজ্রপাতের কারণগুলো তুলে ধরে বলেন, প্রতি বছর গড়ে ২ হাজার মানুষ বাংলাদেশে বজ্রপাতের কারণে মারা যাচ্ছে। আর সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলে। তাই আমাদের আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে।
জনসচেতনতামূলক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেনÑ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ সময় পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।