চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসন্ত জানান দেয় আমের মুকুল আসার : পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

10

হাড় কাঁপানো শীত আর ঘনকুয়াশাকে বিদায় দিয়ে শেষ হচ্ছে মাঘ মাস। শুরু হতে যাচ্ছে ফাগুন মাস। ফাগুন মানেই ঋতুরাজ বসন্ত। আর বসন্ত মানেই পাতা ঝরার মাস। এই মাসেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রকৃতিতে বসন্ত আসে আমের মুকুলের ম-ম গন্ধে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না।
আর ক’দিন পরই তাপমাত্রার বৃদ্ধি সঙ্গে সঙ্গে গাছে গাছে ফুটতে শুরু করবে মুকুল। আর তাই এখন থেকেই আমগাছগুলো থেকে রোগবালাই, ধুলাবালি ধুয়ে মুছে ফেলতে শুরু হয়ে গেছে গাছের পরিচর্যা। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে বিভিন্ন জাতের ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩টি।
আমচাষিরা জানান, মুকুল আসার আগ মুহূর্তে গাছের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতবেক ছোট-বড় আমবাগান পরিচর্যা করা হচ্ছে। বাগানের আগাছা পরিষ্কার করে সেচ, সার দেয়া হচ্ছে। পোকা দমনে স্প্রে করা হচ্ছে কীটনাশক। এতে মুকুল ফুটতে সুবিধা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত আমের সিংহভাগই উৎপাদন হয় আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কয়েক বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোপলভোগ, ক্ষিরসাপাত, লখনা (লক্ষণভোগ), ল্যাংড়া, আম্রপালি, দুধসর, কালীভোগ, আশ্বিনা, কাটিমন, গৌড়মতি, ব্যানানা, হাঁড়িভাঙ্গা, ডকমাই, মিয়াজাকি, বারি-৪, মল্লিকা, বোম্বাই, মোহনভোগ, কিষানভোগ, বারি-১১, রানীপছন্দ, কুমড়াজালি, কাঁচাশিঠি, দুধস্বর, বৈশাখী, মহানন্দাসহ কয়েকশ জাতের আমচাষ হচ্ছে। অনেকেই পুরাতন আমগাছ কেটে নতুন নতুন জাতের আমচাষ করছেন। দুশোর বেশি জাতের আমচাষ করা হয়ে থাকে। দিন দিন চাষিরা আমচাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তারা সবসময় কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের পরিচর্যা করে থাকেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এবার ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে বিভিন্ন জাতের ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭০৫টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৮২৫টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫০টি, নাচোল উপজেলায় ৪ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে ২৯ লাখ ৮ হাজার ৮৫০টি ও ভোলাহাট উপজেলায় ৩ হাজার ৬৬৩ হেক্টর জমিতে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৫টি আমগাছ রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন- মুকুল ফোটার ১৫ দিন আগে একটি স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে চাষিদের। সেই মোতাবেক তারা এখন স্প্রেসহ আমগাছগুলোর পরিচর্যা করছেন। তাপমাত্রা বেড়ে গেলেই আমগাছে মুকুল ফুটতে শুরু করবে বলে তিনি জানান।