চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাণের স্পন্দন বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে

32

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৫০ হাজার জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে উদ্্যাপন হয়েছে এবারের বিজয় দিবস ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ছিল প্রাণের স্পন্দন।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ও এনজিওগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ :
নিজস্ব প্রতিবেদক : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি-বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ৫০ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে শুরু হয় জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম-সংবলিত স্মৃতিফলকে এবং পরে আবদুল মান্নান সেন্টু মার্কেটের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদের নেতৃত্বে জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিবের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, মেয়র মোখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, জাসদ ও এর অঙ্গ সংগঠন, নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের নেতৃত্বে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সকল সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকাল ৮টায় ডা. আ.আ.ম. মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ-সময় পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব উপস্থিত ছিলেন।
পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়াস সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সে, স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। বেলা ১১টায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয় জেলা প্রশাসন। সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু মঞ্চে ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনাসহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করা হয়।
আওয়ামী লীগ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদ্্যাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় জেলা শহরের শহীদ মনিমুল হক সড়কে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়, দলীয়, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানানো হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন, সহসভাপতি ডা. গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী ইসলাম জেসি, পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল আলম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রেজা ইমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জামাল আব্দুল নাসের পলেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
বালুগ্রাম আদর্শ কলেজ : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালুগ্রাম আদর্শ কলেজে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষ মোহা. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তৃতা করেনÑ উপাধ্যক্ষ ন.স.ম. মাহবুবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক এ.কে.এম. রেজাউল করিম ও খাইরুল ইসলাম, প্রভাষক রোকেয়া খাতুন ও শিক্ষার্থী পিয়া খাতুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী লাইব্রেরিয়ান জসিম উদ্দীন।
বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালা : জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন, ঐতিহ্যবাহী তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা, হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা, মেয়েদের রশি টানাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালায় মহান বিজয় দিবস উদ্্যাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং গ্রামে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষকদের জন্য ছিল হাঁড়ি ভাঙা খেলা।
এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গ্রাম্য মোড়ল কার্তিক কোল টুডুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেনÑ বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র দাস, প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, গ্রাম্য মোড়ল চানু হাসদা, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস, লুইস মুর্মু, সহকারী শিক্ষক সোনিয়া খাতুন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক শিরিনা খাতুন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শুরুতে শতভাগ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। পরে সকল বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া যেমন খুশি তেমন সাজো ও মেয়েদের রশি টানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলকে পুরস্কার দেয়া হয়।
শিবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদ্্যাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা চত্বরের শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাকিব-আল-রাব্বী, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিনসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন, শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
গোমস্তাপুর : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস উদ্্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিলÑ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের শুরু, জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, উপজেলার সর্বত্র জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গকে সংবর্ধনা, বিভিন্ন স্থানে উন্নত খাবার পরিবেশন, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা, জাতীয় শপথ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সকল কর্মসূচিতে অংশ নেনÑ সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান ও গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন রেজা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, রহনপুর পৌর মেয়র মতিউর রহমান খান, গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজম, গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাসসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইউপি চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।
বিকেলে রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সারাদেশের মতো আয়োজন করা হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ অনুষ্ঠান। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্্যাপন শেষ হয়।
ভোলাহাট : বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভোলাহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্্যাপিত হয়েছে বিজয় দিবস ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি ঘিরে ছিল নানা কর্মসূচি। সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন ছিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সমুন্নত ভোলাহাট স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর জিয়ারত এবং শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সকাল ৯টার সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টার সময় রামেশ্বর হাই স্কুল মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমর কুমার পালের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ উপজেলা চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেনÑ ডাইসিন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। আরো বক্তব্য দেনÑ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক উপজেলা কমান্ডার নুরুল হকসহ অন্যরা। এ সময় প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ডাইসিন গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি করে শাল ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি করে কম্বল প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।