চাঁপাইনবাবগঞ্জে জয়িতা সম্মাননা পেলেন মা ও মেয়ে

62

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনিবার আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় জয়িতাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এবার সদর উপজেলা থেকে অন্যদের পাশাপাশি দুটি ক্যাটাগরিতে এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মা ও মেয়ে। তার মধ্যে সফল জননীর জয়িতা সম্মাননা পেয়েছেন মা মোসা. শওকত আরা আর শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীর সম্মাননা পেয়েছেন শওকত আরার মেয়ে মোসা. মরিয়ম নেসা নয়ন।
একই মঞ্চে জয়িতার সম্মাননা পেয়ে খুশি মা ও মেয়ে।
মোসা. শওকত আরার ১৯৭০ সালে রাজশাহী মহিলা কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায়। তার স্বামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাশহরের হুজরাপুর পোড়াবাগের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা। বিয়ের পর আর লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি।
শওকত আরা ও গোলাম মোস্তফা দম্পতির ৪ সন্তান। তাদের মধ্যে ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে মোকাব্বের হোসেন কিরণ বর্তমানে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। মেজ ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দন বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিটি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রভাষক পদে এবং মোদাশে^র হোসেন সুমন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। একমাত্র মেয়ে মরিয়ম নেসা নয়ন জেলাশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সন্তানদের মধ্যে সুমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান, চন্দন ম্যানেজমেন্ট এবং নয়ন মার্কেটিংয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়া কিরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে চাকরিতে যোগদান করেন।
এদিকে মরিয়ম নেসা নয়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৭ম স্থান অধিকার করায় কলেজের পক্ষ থেকে তাকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
সফল জননী শওকত আরার স্বামী গত প্রায় ৬ বছর আগে ইন্তেকাল করেন। তিনি এখন প্যারালাইজড অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মায়ের সফলতার পুরস্কারটি গ্রহণ করেন শওকত আরার দুই ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দন ও মোদাশে^র হোসেন সুমন।