চাঁপাইনবাবগঞ্জে গম্ভীর নানা কুতুবুল আলমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

63

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ১ ঘণ্টার বক্তৃতায় আমরা মানুষকে যে কথা বোঝাতে পারি না, মাত্র ১৫ মিনিটের গম্ভীরায় নানা ও নাতি তাদের কথোপকথনের মাধ্যমে তা পারেন। সমসাময়িক যে কোনো বিষয়ে মানুষের মাঝে মূল বক্তব্যটি গম্ভীরার মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া যায়।
শনিবার বিকেলে গম্ভীরা সম্রাট কুতুবুল আলমের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
মেয়র লিটন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জেলা, আম, রেশম ও কাঁসা-পিতলের জেলা। এই চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদে শুয়ে আছেন একজন বীরশ্রেষ্ঠ এবং চাঁপাইনববাগঞ্জ দিয়েই মুক্তিবাহিনী প্রবেশ করেছিল। সবদিক দিয়েই সমৃদ্ধ একটি জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এই জেলার সবদিক দিয়েই অপার সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু এই জেলার মানুষ প্রচারবিমুখ। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে কুতুবুল আলম অনেকবার গম্ভীরা পরিবেশন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মাথায় যে মাথাল, কুতুবুল আলমের মাথাতেও সেই মাথাল। স্বাধীনতার এত বছর পরেও কুতুবুল আলম স্বাধীনতা বা একুশে পদক পেলেন না তা আমার জানা নেই। তবে আমি ও আবেদ খান বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। তাঁকে এই সম্মান দিতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের দূষবে।
রাসিক মেয়র বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর রয়েছে, রয়েছে রহনপুর রেলবন্দর। এই দুটি বন্দর দিয়ে শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানি নয়, এই বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে শিল্পায়ন করার চিন্তাভাবনা চলছে। কারণ, এই এলাকায় অনেক কিছু করার আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশকে উন্নয়নের কাতারে তুলে আনতে চায়ছেন। এই এলাকায় শিল্পায়নের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন।
দৈনিক জাগরণ সম্পাদক দেশবরেণ্য সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেদ খান বলেন, সেই শিল্প খাঁটি শিল্প যা মানুষকে মিথ্যে আশ্বাস দেয় না, সেই শিল্প খাঁটি শিল্প যা মানুষকে চেতনা থেকে বিচ্যুত করে না, সেই শিল্প খাঁটি শিল্প যার পা মাটিতে আর চোখ থাকে আকাশে এবং শেকড় থাকে মাটিতে। প্রধান বক্তা হিসেবে এক তুর্কি কবির এ উদ্ধৃতি দিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। আবেদ খান বলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ গোটা রাজশাহী অঞ্চল অমিত শক্তিধর একটি অঞ্চল।
আবেদ খান বলেন, কুতুবুল আলম একটি কমিটমেন্ট নিয়ে গম্ভীরা করতে এসেছিলেন। যে কারণে তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে স্ত্রী-সন্তান হারিয়েছিলেন। কুতুবুল আলম গম্ভীরার মাধ্যমে লোক হাসালেও অন্তরে ছিল তার গভীর বেদনা। কিন্তু তবু তিনি তার কমিটমেন্ট থেকে বিচ্যুত হননি। তার গম্ভীরা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এর চর্চা করতে হবে। এই গম্ভীরা যেন কোনোভাবে বিকৃত না হয়, এজন্য মূলকে শক্ত করতে হবে তাহলে বিকৃত হতে বাঁচানো যাবে। এটার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন ।
নবাবগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে কুতুবুল আলম স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কামাল পাশা চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। আলোচনায় আরো অংশ নেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রুহুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, মরহুম কুতুবুল আলমের পুত্র সুজাতুল আলম কল্লোল।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সভা সঞ্চালনা করেন কুতুবুল আলম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব শাহরিয়ার মাহমুদ প্রিন্স।
এর আগে জেলার ভোলাহাট উপজেলায় সাংবাদিক আবেদ খান সৌজন্য সফর করেন। আমাদের ভোলাহাট প্রতিনিধি জানান, দেশবরেণ্য সাংবাদিক আবেদন খান ভোলাহাটে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মমতাজউদদীনের কবর জিয়ারত শেষে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেনে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক আবেদ খান প্রথমে বজরাটেক কানারহাটে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার মমতাজউদদীনের কবর জিয়ারত করেন। পরে বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ মিজানুর রহমানের দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। প্রথমে সাইফুন্নেসা দাতব্য চিকিৎসালয়ে যান। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আশরাফুল হক চুনুসহ কর্মরত কর্মচারীগণ তাকে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর মেডিকেল মোড়ে পল্লীমঙ্গল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে যান। সেখানে অধ্যক্ষ নাসিম হায়দার, শিক্ষক রোশনুজ্জামান ফিরোজ, শামিউল আলম, মতিউর রহমানসহ অন্যরা আবেদ খানকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখান।
এ সময় আবেদ খান ও তার সফরসঙ্গীরা মফস্বল এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এর সফলতা কামনা করেন।