চাঁপাইনবাবগঞ্জে গমের আটার দাম ঊর্ধ্বমুখি

12

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চালের পর এবার গমের আটার দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চল গেছে। চড়া দামে বিক্রি না হবার আশঙ্কায় অনেক মুদি দোকানী প্যাকেট জাত আটা বিক্রি থেকে বিরত রয়েছেন।
জেলা সদরের নিউ মাকেটের মুদি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্যাকেট জাত গমের আটা অনেক দোকানেই নেই। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দাম অনেক বেশি। ৩৭-থেকে ৩৮ টাকার প্যাকেট আটা গত সপ্তাহে দাম ছিল ৪৮-৫০ টাকা। সেই আটা এখন ৫৮-৬০টাকা। অন্যদিকে খোলা আটা ৪৮-৫০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজিতে ২টাকা কমেছে বলে তারা জানান। তবে তার প্রভাব এখনও বাজারে পড়েনি। কেন না আগের কেনা চাল আগের দামেই বিক্রি করছেন তারা।
শুক্রবার আঠাশ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬০টাকা, সয়াবিন তেল ১৮০-১৮৫ টাকা লিটার, চিনি ৮৮-৯০ টাকা কেজি, মুসুর ডাল ১০০-১০৫ টাকা কেজি, ডিম প্রতি হালি ৩৭ টাকা। দামে বেড়েছে কাপড় কাচা সোডাসহ অন্যান্য পণ্যের। প্রতিকেজি সোডার দাম ১শ টাকা।
সবজি বাজারে আবারো কমেছে সবধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম। সবজি বিক্রেতা আব্দুল খালেক জানান, কাঁচা মরিচের দাম ২০-৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও বেগুনের দাম ২৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, কচু ৪০-৪৫টাকা, আলু ২৬-৩৫টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা, কুমড়া ও লাউ প্রতিটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বরবটি প্রতিকেজি ৮০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, পাতা কপি ৫০-৫৫ টাকা, ঁেপপে ১৫-১৬টাকা, কাঁচা কলা ৩৫ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০টাকা, টমেটো দেশি ১শ টাকা, পেঁয়াজ দেশি ৪৮-৫০ টাকা, ভারতীয় ৩৫টাকা। অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে । যার মধ্যে ঢেড়স, পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকা দরে যা গত সপ্তাহে ৪০ টাকা পর্যন্ত ছিল ও লাউ,কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০টাকা।
এদিকে, মাংসবাজারে গরু এবং খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও কেজি প্রতি ২০- ৩০টাকা বেড়েছে প্যারেন্টস, লেয়ার ও সোনালী মুরগীর দাম। আমদানী কম থাকায় এই মুরগীর দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।
মাছবাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা দামে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ইলিশ মাছের দাম কেজি প্রতি ১০০টাকা কমে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট-বড় বেশ কিছু মাছের দাম কমলেও কিছু কিছু মাছের দাম ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, রুই ২৪০-২৮০টাকা,কাল বাউস মাছ ৩২০ টাকা, দেশি শিং মাছ ৭০০টাকা, বাচা মাছ ৮০০টাকা, চাষের চিংড়ি ৬০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, দিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় প্রণ্যর দাম বৃদ্ধিতে আমরা অনেক বিপাকে পড়ে যাচ্ছি। যদি সরকার বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেন তাহলে হয়তো আমাদের সাধ্যের মধ্যে খাবার খেতে পারবো। বাজার করতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য বেতনে চাকরি করি। দ্রব্যমুল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মাস শেষে ঘাটতি হচ্ছে।