চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিবিদ দিবস উদযাপন

8

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিবিদ দিবস-২০২৪ উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি জেলাশহরের বিভন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে বেলুন উড়ানো হয়। পরে বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক রহিমা খাতুনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, হর্টিকালচার সেন্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক; আম গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোশারফ হোসেন; জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আনিছুর রহমান; জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম; জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান; জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা; জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান; জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।
‘বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দিবানিশি-উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে স্মার্ট কৃষি’Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কর্মরত কৃষিবিদগণ ও কৃষি বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. পলাশ সরকার বলেন, কৃষিবিদদের একটি ইতিহাস রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষির উন্নয়নে কৃষিবিদ তৈরি ও কৃষি গবেষণার ওপর জোর দেন এবং তা প্রতিফলিত হয় দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। সেখানে ৩৩ কোটি টাকা কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দের কথা বলা হয়। এজন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়। এসময় কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। আধুনিকায়ন হয় কৃষি গবেষণা, ধান গবেষণা, মৎস্য, পাট, চা উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের কৃষি শিক্ষায় আকৃষ্ট করার জন্য ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদদের চাকরির ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ঘোষাণা করেন।
ড. সরকার বলেন, বর্তমানে বঙ্গববন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষিতে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে। কৃষিকে ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। এখন চলছে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ার কাজ।
উল্লেখ্য, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের যাত্রা ২০১১ সালে শুরু হলেও এবারই সারাদেশে জেলাপর্যায়ে আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।