চাঁপাইনবাবগঞ্জে এলজিএসপি-৩ এর আওতায় ৫ বছরে ২৬৭৪ স্কিম বাস্তবায়ন

39

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ এর অগ্রগতি ও অর্জন বিষয়ে জেলাপর্যায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত কর্মশালা বাস্তবায়ন করে বায়াক্ট বাংলাদেশ।
কর্মশালায় জানানো হয়Ñ স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পটি সারাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সাংবিধানিক অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রশাসনে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব প্রদানের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিতকরণে করণীয় নির্ধারণসহ সকল পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ে এ প্রকল্পের কার্যক্রম সুচারুরূপে বাস্তবায়নের লক্ষে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেনÑ জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক আনিছুর রহমান।
তথ্যচিত্রের মাধ্যমে প্রকল্প সম্পর্কিত বিস্তারিত তুলে ধরেন এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ফ্যাসিলেটেটর মো. হাসিবুল ইসলাম। তিনি তার উপস্থাপনায় জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছর হতে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছরে ২ হাজার ৬৭৪ স্কিম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮২টি স্কিমে এইচবিবি, আরসিসি, সিসিসহ প্রায় ৭৪ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। অপর দিকে পানি সরবরাহ খাতে গত ৫ বছরে ২২৩টি স্কিম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় ৩১১টি সাবমার্সিবল পাম্প, ৭৪৩টি টিউবওয়েল এবং ৯.৫ কিলোমিটার পানি সরবরাহ লাইন স্থাপনের মাধম্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপানা খাতে গত পাঁচ বছরে ২৯৮টি স্কিম বাস্তবায়মের মাধ্যমে মোট ১২ কিলোমিটার প্রটেকশন ওয়াল এবং ২২ কিলোমিটার পানি নিষ্কাশন ড্রেন ও ৬৫টি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে সক্ষমতা উন্নয়ন খাতে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষে ১৫০টি স্কিম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৬২০ জন নারীকে সেলাইমেশিন প্রদান, ৪২৫টি বাইসাইকেল প্রদান এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ৪৫টি সভার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার লোকের সমাবেশ করা হয়।
কর্মশালায় জানানো হয় যে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৫,৭৪৪.২০ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ৩,১৫৩.০০ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ ২,৫৯১.২০ কোটি টাকা। প্রকল্পের থোক বরাদ্দের অর্থ সরাসরি দেশের ৪৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলোÑ ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমান ফর্মুলাভিত্তিক (আয়তন ও জনসংখ্যা) থোক বরাদ্দের অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং ১৬টি পৌরসভাতে পাইলট ভিত্তিতে সম্প্রসারিত থোক বরাদ্দ চালুকরণ। এছাড়া এলজিএসপি’র উল্লেখযোগ্য অর্জন বা সাফল্যসমূহের মধ্যে রয়েছে সকল ইউনিয়ন পরিষদে দুই কিস্তিতে বছরে দুইবার মৌলিক থোক বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি স্থানান্তর করা; মৌলিক থোক বরাদ্দের তিন বছরের সম্ভাব্য বরাদ্দ অগ্রিম (ইন্ডিকেটিব সিলিং) ঘোষণা এবং তা ইউনিয়ন পরিষদকে জানিয়ে দেয়া; ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা হওয়া এক অর্থবছরের অর্থ অব্যয়িত থাকলে সে অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে ব্যবহারের একটি পদ্ধতি চালু; কর্মদক্ষতাভিত্তিক অনুদান চালুকরণ; বেসরকারি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সকল ইউনিয়নের বার্ষিক আর্থিক অডিট এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন; ইউনিয়ন পরিষদের থোক বরাদ্দে বিশ্বব্যাংকের অংশ ক্রমশ হ্রাস এবং সরকারি অংশ বৃদ্ধি; পরিকল্পনা, বাজেট এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান; প্রকল্পের স্কিম বাস্তবায়নে পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিপালন; উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও স্কিম নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি; ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসনের পথে অগ্রসর হওয়া; বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা, বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প/স্কিম নির্বাচন, বাস্তবায়ন ও তদারকিতে জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি সামগ্রিকভাবে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুততম সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতার একটি অনুকূল পরিবেশ প্রস্তুত।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেনÑ নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শংকর কুমার কুণ্ডু, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, বায়াক্ট বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে কর্মশালা সমন্বয়ক এলজিএসপি-৩ আরিফ হোসেনসহ অন্যরা। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মিঠুন মৈত্র।
কর্মশালায় ৪টি ভাগে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রণয়ন করেন।