চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টির কারণে বিলম্বিত আবাদ : শেষ মুহূর্তে আমন চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষককুল

14

শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি অথচ পর্যাপ্ত বৃষ্টি নেই। এ অনাবৃষ্টির কারণে বিলম্বিত হয়ে পড়েছে রোপা আমন চাষাবাদ। তবু বসে নেই জেলার কৃষককুল। কেউ বৃষ্টির পানি, কেউ গভীর নলকূপের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে জোরেশোরে চারা রোপণে ব্যস্ত দিন পার করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে মাঝে মধ্যে বৃষ্টির হওয়ায় কৃষকরা তাদের জমিতে শুরু করেছেন চারা রোপণ। আগামী ১০ দিনের মধ্যে রোপণ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেনÑ মোটামুটি চাহিদা মোতাবেক বৃষ্টি হয়েছে। তবে যেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হয়নি সেসব জায়গায় কৃষকরা সেচের পানি দিয়ে চারা রোপণ করছেন। বীজতলায় চারাগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেরি না করে কৃষকরা গভীর নলকূপের পানি দিয়েই রোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে কৃষকরা জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। এ সময়ে দুই থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত বর্ষা লেগে থাকে। কিন্তু আবহাওয়াজনিত কারণে তেমনটা এখন দেখা যায় না। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে তীব্র খরা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষকের মধ্যে। যাদের জমিতে গভীর নলকূপ, ছোট নলকূপ, পুকুর আছে তারাই জমিতে চাষাবাদ করে চারা রোপণ করেছে। পাশাপাশি কয়েকদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় পুকুর ও খালের জমে থাকা পানির সেচ দিয়ে জমি চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উফসি জাতের ধান ১৩ হাজার ১৫৫ হেক্টর, স্থানীয় ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর ও হাইব্রিড ১০০ হেক্টর জমিতে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উফসি জাতের ধানের চারা ৫ হাজার ৫০ হেক্টর, হাইব্রিড ১ হাজার ১০ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।
পার্বতীপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাম জানান, ২০ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে পেরেছি। গত কয়েকদিন সামান্য বৃষ্টি হওয়ার বাকি জমিতে চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে চারা লাগিয়ে শেষ করব। তিনি জানান, এ অঞ্চলের অনেক উঁচু জমি পানির কারণে পতিত হয়ে আছে।
ওই এলাকার আরেক কৃষক শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, রহনপুর-আড্ডা সড়কে কালভার্টের পাশে তার প্রায় পাঁচ বিঘা জমি আছে। পানি না থাকার কারণে এখনো হাল দেয়া যায়নি। এ সপ্তাহে বৃষ্টি না হলে তিনি জমি চাষাবাদ করতে পারবেন না এবং বীজতলার অবস্থাও ভালো না বলে তিনি জানান।
রহনপুর এলাকার কৃষক এনামুল হক বলেন, তিনি দেরিতে হলেও জমিতে চাষাবাদ শেষ করেছেন। তার বীজতলা শুকিয়ে হলুদবর্ণ হতে লেগেছিল। গত সপ্তাহে বৃষ্টির জমে থাকা পানির পর থেকেই জমিতে চাষাবাদ শেষ করেছি। পরবর্তীতে কি হবে আল্লাহই জানেন।
এদিকে অনেক কৃষক জানায়, উপজেলার বিভিন্ন মাঠ শুকনো অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে বীজতলা তৈরি প্রায় এক মাসের মধ্যে জমিতে চারা লাগানো হয়। কিন্তু অনেক কৃষকের বীজতলা মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হলে কৃষকরা দ্রুতগতিতে চারা রোপণ করতে পারবে বলে ধারণা করছেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষাবাদে বিলম্ব হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা এখন চারা রোপণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে না বলে তিনি জানান।