চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কৃষকরা

25

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সুষ্ঠু মনিটরিং কার্যক্রম চলছে। কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১০ জন বিসিআইসি ও ৯ জন বিএডিসি সার ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিদিন সার ডিলারদের গুদাম মনিটরিং করে যাচ্ছেন। সার বিক্রির সময় সার ডিলারের দোকানে একজন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকছেন।
উল্লেখ্য, বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলার ছাড়া সাব ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সার উত্তোলন বা বিক্রি করতে পারবেন না বলে জেলা সার ও বীজ বিপণন মনিটরিং কমিটির মিটিং এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও টিএসপি ২২ টাকা কেজি দরে, ডিএপি ১৬ টাকা কেজি দরে, এমওপি ১৫ টাকা কেজি দরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী পেয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে ইউরিয়া সার ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনের মধ্যে অতিরিক্ত ৮৬ মেট্রিক টন বরাদ্দ পায়। এর মধ্যে ৬৮ দশমিক ৮ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে ১৭ দশমিক ২ মেট্রিক টন। ডিএপি বরাদ্দ ৩০৫ মেট্রিক টনের মধ্যে উত্তোলন হয়েছে ১৯০ মেট্রিক টন। টিএসপি বরাদ্দ ৮৪ দশমিক ৫০ মেট্রিক টনের মধ্যে ৮০ মেট্রিক টন উত্তোলন হয়েছে। এমওপি বরাদ্দ ১৮৫ মেট্রিক টনের মধ্যে পুরোটায় উত্তোলন হয়েছে। পুনঃবরাদ্দ ৬৩ মেট্রিক টন এখনো পুরোপুরি উত্তোলন হয়নি।
এদিকে প্রথমদিকে একটি চক্র স্যার সংকট করার চেষ্টা করেছিলেন। তারা এলাকার পরিচিত ও আত্মীয়স্বজনের নাম দিয়ে স্যার মজুত করেছিলেন। ওই সার বাইরে বেশি দামে তা বিক্রি করার চেষ্টা করেছেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মনিটরিং করে বেশ কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
আক্কেলপুর বাজারের বিএডিসির সার ডিলার আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার তদারকিতে সার বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সার মনিটরিং কমিটি তাদের নিয়মিত মনিটরিং করে যাচ্ছেন। কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার নিয়ে যাচ্ছেন। সারের কোনো সংকট নেই বলে তিনি জানান।
যাতাহারা বাজারের মেসার্স নাসিমা বীজ ভাণ্ডারের মালিক বলেন, নিয়ম নীতি মেনেই প্রতিদিন মনিটরিং কর্মকর্তাদের সারের মজুতসহ সব ধরনের হিসাব দিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে সারের খুচরা মূল্য সম্মিলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া আছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই আমরা সার বিক্রি করছি। তিনি জানান, বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই।
আক্কেলপুর গ্রাম এলাকার কৃষক চন্দন বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। বাইরের অসাধু লোকজন ও ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সার আর কিনতে পারছেন না ডিলারের কাছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কারণে। তিনি ৮ বিঘা জমি চাষাবাদ করছেন বলে জানান।
পার্বতীপুর ইউনিয়নের জগত গ্রামের কৃষক কলিমুদ্দিন কালু বলেন, ১০ বিঘা জমি চাষ করে তার সার পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি বলে। এভাবে তদারকি থাকলে সারের কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, অনুমোদিত সার ডিলারদের কাছে খোঁজ নেন পর্যাপ্ত পরিমাণে সার রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই, চাহিদা অনুসারে সার নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। কোনো অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।