চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা এমপি জেসির

43

জাতীয় সংসদে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংরক্ষিত আসন, ৩৩৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসি। গত রবিবার তিনি দাবিগুলো উত্থাপন করেন।
উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নীতকরণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের জন্য একটি সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, একটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, করোনার সময় বন্ধ রাখা আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা ও ধুমকেতুর সংযোগ শাটল ট্রেন দুটি পুনরায় চালু, পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংসদে তার নির্ধারিত সময়ের বক্তৃতায় জেসি বলেন, চাঁপানবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল রয়েছে। সেই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ আধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জামও রয়েছে। হাসপাতালটিকে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রূপান্তর করা হলে চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে এবং গরিব লোকজনের চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদার হবে, এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে।
জেসি বলেনÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ২০ লক্ষ লোকের বসবাস। জেলায় একটি মাত্র বেসরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তাতে ধনী উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্তদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। কিন্তু গরিব নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে না। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে, যা শিক্ষার মান বাড়াতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, আম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসল। বর্তমানে দেশের ২৩ জেলায় আমের চাষাবাদ হলেও ঐতিহ্যগতভাবে এ ফলটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হচ্ছে। দেশের মোট উৎপাদিত আমের ২৫ ভাগই আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে। নতুন আমবাগান স্থাপন, পুরাতন বাগানের পরিচর্যা, ব্যাগিং, আম সংগ্রহ, পরিবহন, বাজার জাতকরণ এবং রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কাজকর্মে বছরে প্রায় ৮-১০ লাখ লোকের ৪-৬ মাস কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ-পোকা মুক্ত নিরাপদ আম উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে আম। ৩৫০ প্রকারের আম শুধুমাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের “১০০ কৃষি প্রযুক্তি এটলাস” অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেসি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে আপনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র করা হবে। আম গবেষণা ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রসঙ্গে সংসদে ফেরদৌসী ইসলাম জেসি আরো বলেনÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অন্যান্য জেলার তুলনায় অনগ্রসর জেলা। এই জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হবে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনামসজিদ স্থলবন্দর রয়েছে। এইসব কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা খুবই জরুরি। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিদর্শন করে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে প্রস্তাব প্রেরণ করেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদ চলাচলের মাধ্যম হলো ট্রেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু ছিল। একটি বনলতা ট্রেন সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ঢাকা। অন্য দুটি শাটল ট্রেনের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে রাজশাহী তারপর রাজশাহী হতে আন্তঃনগর পদ্মা ও ধুমকেতুর সংযোগ ছিল। করোনার সময় শাটল ট্রেন ২টি বন্ধ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত চালু করা হয়নি। শাটল ট্রেনটি দুটি পুনরায় চালু করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মূলত পদ্মা ও মহানন্দা নদী বেষ্টিত। ভারতের গঙ্গা নদী বাংলাদেশে পদ্মা নামে প্রবাহিত। বর্ষাকালে ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিলে প্রচণ্ড স্রোতের প্রথম ধাক্কা খায় চাঁপাইনবাবঞ্জে। ফলে ভাঙনের মুখে পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। জেলার নারায়ণপুর ও পাঁকা ইউনিয়ন দুটির ভাঙন রোধ করতে না পারলে ইউনিয়ন দুটি বিলীন হয়ে যাবে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ফেরদৌসী ইসলাম জেসি।