চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ, নিহত ৭

10

চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১৫ জন।  রবিবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর দুটি ভবনের দেয়ালের একাংশ ধসে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহসীন বলেন, পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ভবনের দুটি দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ১৬ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে ৭ জন মারা গেছেন। নন্দনকানন, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদ তিন স্টেশনের ১০ গাড়ি উদ্ধার কাজ শুরু করে। গ্যাস লাইন পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিকেল আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ২টি আবাসিক ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সঙ্গে ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ প্রমুখ। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান ও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের পর আহতাবস্থায় প্রথমে ১২ জনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ৭ জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দুজন নারী ও একজন শিশু।
এদিকে নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- কক্সবাজারের উখিয়ার নুরুল ইসলাম (৩১), পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়া (৪০), রাঙ্গুনিয়ার কাজল নাথের মেয়ে কৃষ্ণকুমারী স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা নাথ (১৬), নতুন ব্রিজ এলাকার শ্রমিক নুরুল ইসলাম (৩০), পাথরঘাটার জুলেখা খানম ফরজানা (৩০) ও তার ছেলে আতিকুর রহমান (৮)।