গোয়ালডুবি এলাকায় পদ্মার ভাঙনে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ

35

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। চলতি বন্যা মৌসুমে ওই এলাকায় পাকা মসজিদসহ কাঁচা-পাকা ১০ থেকে ১২টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, সরিয়ে নেয়া হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি।
সর্বনাশা পদ্মা গ্রাস করেছে আমবাগানসহ অন্তত ৫০০ বিঘা ফসলি জমি। গত ৫ দিনে পদ্মার পাড় থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ১৫টি পারিবার। ভাঙনের হুমকিতে আছে বাখের আলী, ফাটা পাড়া, মোড়ল পাড়া, চাকপাড়াসহ আরো কয়েকটি গ্রাম। এসব এলাকাতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এলাকার লোকজন আতঙ্কে আছে। অনেকের ভিটামাটি, আবাদি জামি, নিজ হাতে যত্ন করে লাগানো শখের আমের বাগান সব নদীতে চলে গেছে।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ রানা টিপু গৌড় বাংলাকে বলেন- এবার পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে গোয়ালডুবি ও বাখের আলী এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিলীন হয়েছে আমবাগানসহ অন্তত ৫০০ বিঘা ফসলি জমি।
অন্যদিকে ভাঙনের তীব্রতায় পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের গোয়ালডুবি এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সিসি ব্লক স্রোতের তোড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ওইসব স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. ময়েজ উদ্দিন। তিনি আরো জানান, পদ্মা ও মহানন্দার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ  সোমবার বৃদ্ধি হয়নি। আশা করা হচ্ছে আগামীকাল  থেকে পানি কমতে শুরু করবে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান সুজন বলেন- আজ  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনের তীব্রতা বেশি। পানি যদি আরো বৃদ্ধি পায় তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েব।