গোমস্তাপুরে নিখোঁজ ছাত্রকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

19

রাজশাহীর নিখোঁজ শিশু শিক্ষার্থী কারিমকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার রাতে নিজ কার্যালয়ে শিশুটির মামার কাছে দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, শিশুটির মামা বাহাদুর আলী, ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ ও মুশফিকুর রহমানসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
গত শনিবার রাতে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের আড্ডা মোড় এলাকায় শিশু কারিমের সন্ধান পান স্থানীয়রা। তার বয়স ১৩ বছর। রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারিয়াপাড়ার শাহ আলমের ছেলে কারিম রাজশাহীর মাদ্রাসা-ই-দারুল আরকাম (রা.) এর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় রবিবার কাশিয়াডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজ কারিমের নানি।
সাধারণ ডায়েরি ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কারিম কাউকে না জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে সহপাঠীরা কারিমকে দেখতে না পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের জানায়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা মাদ্রাসায় খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারকে জানায়। পরিবারের সদস্যরাও তার সন্ধানে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খবর নেন। কিন্তু খুঁজে না পেয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ওই শিক্ষার্থীর নানি আলেয়া বেগম।
পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, শনিবার রাতে আড্ডা মোড় এলাকায় শিশুটি এলেমেলোভাবে চলাফেরা করছিল। ওই সময় এলাকার লোকজন সন্দেহ হলে শিশুটিকে জিজ্ঞেসাবাদ করেন। এসময় কারিম জানায়, সে রাজশাহী থেকে বাসে করে চলে এসেছে। পরে ঘটনাটি আমাকে অবহিত করে তারা। সকালে শিশুটিকে নিজ হেফাজতে নিই আমি।
চেয়োরম্যান আরো বলেন, তার পরিচয় জেনে ওই থানার ওসিকে ফোন করে বলি, ‘আপনার এলাকার এক শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে।’ ওই সময় ওসি জানান, ওই ছেলেটি নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি রয়েছে। পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাদের ডেকে পাঠান। রবিবার রাতে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ইউএনও আসমা খাতুন শিশু কারিমকে তার মামা বাহাদুর আলীর কাছে তুলে দেন।
কারিমের মামা বাহদুর আলী বলেন, কারিম ছোট থেকেই নানির কাছে থাকে। কারিম বড় হলে মাদ্রাসা-ই-দারুল আরাকাম (রা.) মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এখন সে ওই মাদ্রায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। কারিমকে খুঁজে পাওয়ায় ইউএনও, চেয়ারম্যানসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন বলেন, শিশু শিক্ষার্থী কারিমের তথ্য যাচাই করে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।