গোমস্তাপুরে নতুন জাত বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানের পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ

29

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নতুন জাত বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানের পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ করা হচ্ছে। ধানের এ নতুন জাতটি আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
জানা গেছে, উপজেলার ৫ জন কৃষককে এ বীজ প্রদান করে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে ৩ জনকে রাজস্ব খাতে প্রদর্শনী ও ২ জনকে প্রণোদনার এ বীজ দেয়া হয়েছে। তবে বীজতলা প্রস্তুত, এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জিংক সমৃদ্ধ ব্রি বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানটিকে গত বছর ছাড়পত্র দেয় সরকার। নতুন জাতের এ ধানটি আধুনিক উফশী ধানের বৈশিষ্ট্যসংবলিত। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা হবে ১০১ সেন্টিমিটার। জীবনকাল ১৪৮ দিন। বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানে জিংক রয়েছে ২৫৭ মিলিগ্রাম। নাজিরশাইল বা জিরা ধানের দানার মতো হবে। ধানের রং সোনালি অর্থাৎ খড়ের মতো। চাল মাঝারি চিকন ও সাদা হবে। এই চালের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হবে ৭ থেকে ৮ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্চা এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ফলন বেশি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
রহনপুর ইউনিয়নের বংপুর এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জেম বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে নতুন জাতের বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানের বীজ দেয়া হয়েছিল। সে বীজ জমিতে বপন করা আছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। বীজতলা সুন্দর আছে।
আরেক কৃষক আকতারুল ইসলাম বলেন, বীজতলা ভালো আছে। নতুন জাতের বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানটি করতে পেরে ভালো লাগছে। অন্যান্য ধানের চেয়ে উৎপাদন ভালো হবে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। জমি চাষাবাদের উপযোগী হলে চারা রোপণ করবেন।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, উপজেলার ৫ জন কৃষককে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর জমিতে রোপণ করা হবে। কৃষকদের লাইন ও লোগো করে চারা রোপণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পার্চিং অর্থাৎ রোপণের পর জমিতে গাছের ডাল পুঁতে দেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাতে পাখি ডালে বসে পোকামাকড় খেতে পায়। এতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হবে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু বীজতলা ভালো হয়েছে সেহেতু বিঘাপ্রতি ফলন ২৫ থেকে ৩০ মণ হবে বলে ধারণা করছেন।
ভবিষ্যতে জাতটি উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে বলে সীমা কর্মকার জানান।