গোমস্তাপুরে এবার দ্বিগুণ জমিতে সরিষার চাষ

7

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এবার ২ হাজার ২৫০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রায় চেয়ে উৎপাদন বেশি হবে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
সরিষাসহ ভোজ্য তেলের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কৃষকরা এর চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি বছর উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। জাতের মধ্যে সর্বাধিক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে বারি সরিষা-১৪ এর।
এদিকে গোমস্তাপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মাঠগুলো ছেয়ে গেছে হলুদের সমারোহে। চোখ জুড়ানো সরিষা ফুলের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে অনেককেই ক্ষেতের আশপাশের ঘুরতে যাচ্ছেন।
শীতের সিক্ত বাতাশে গোমস্তাপুরের মাঠগুলোতে সরিষার মৌ মৌ গন্ধে আরো মশগুল হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভাসহ চৌডালা, গোমস্তাপুর, রহনপুর, বোয়ালিয়া, আলিনগর, বাঙ্গাবাড়ী, পার্বতীপুর ও রাধানগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে সরিষা চাষাবাদ ভালো করেছেন কৃষকেরা। ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। কৃষকের মনে বইছে আনন্দের জোয়ার।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, দুই-একটি চাষাবাদ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা হয়ে থাকে। আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক লাগে কম। কম খরচে সরিষা উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমানে মাঠগুলোতে সরিষার ফুল ফুটতে শুরু করেছে।
সরিষা কেটে অনেক কৃষক বোরো ধান চাষাবাদ করবেন। ভালো ফলন ফলাতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জমিতে ভালো ফলন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন।
উপজেলায় ৪২০ হেক্টর জমিতে টরি সরিষা-৭, ২৮৭৫ হেক্টর জমিতে বারি-১৪, ১০ হেক্টর জমিতে বারি-১৫, ২৫০ হেক্টর জমিতে বারি-১৭, ৩২০ হেক্টর জমিতে বারি-১৮, ১৫০ হেক্টর জমিতে বিনা-৯, ৩০৫ হেক্টর জমিতে বিনা-৪, ৪১০ হেক্টর জমিতে বারি-৯, ৫০ হেক্টর জমিতে বিএডিসি-১ এবং ০.১৩ হেক্টর জমিতে রনি-১০ চাষাবাদ হয়েছে।
পার্বতীপুর এলাকার কৃষক এরফান আলী জানান, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি বিভাগ তাকে সরিষা চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ দিয়ে সহায়তা করেছে। জমিতে বীজ বপন করে সরিষা ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষাবাদে খরচ কম। উৎপাদন ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে সামনে বছর অতিরিক্ত জমিতে সরিষা চাষ করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
রহনপুর পৌর এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান বলেন, প্রথমবার তিন বিঘা জমিতে সরিষার চাষাবাদ করেছি। দেখা যাক কেমন উৎপাদন হবে। বাজারে সরিষার দাম ভালো রয়েছে। পরিচর্যা করলে ভালো ফলন হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, সরিষা উঠিয়ে বোরো ধান রোপণ করবেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। গতবছর ছিল ২ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে। এ বছর প্রায় দ্বিগুণ জমিতে সরিষার চাষাবাদ বেড়েছে। এ বছর প্রণোদনা বীজ ও রাসায়নিক দেয়া হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ জনকে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের ৬২৮ জনকে প্রদর্শনী বীজ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরিষা বারি-১৪ জাত উপজেলায় সর্বাধিক চাষাবাদ হয়েছে। এতে খরচ হয় কম। সেচ ও সার লাগে অত্যন্ত কম। সরিষা পাতা উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা হয়। সরিষা কেটে কৃষকরা বোরো ধানও উৎপাদন করতে পারবে বলে তিনি জানান।