গোধরায় ট্রেনে আগুন লাগানোর ‘পরিকল্পনাকারী’ গ্রেপ্তার

87

02-godhra

গুজরাটের গোধরা স্টেশনের কাছে শবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী ফারুক ভানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনার পর ১৪ বছর ধরে পালিয়ে থাকা ফারুককে গত বুধবার গোধরার কাছ থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ফারুককে শবরমতি এক্সপ্রেস আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বর্ণনা করেছে পুলিশ। ট্রেন পোড়ানোর ওই ঘটনায় ৫৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এদের অধিকাংশই ছিলেন কার সেবক। তারা উত্তর প্রদেশের অযোধ্য ভ্রমণের পর ফিরছিলেন। এই ঘটনার পর গুজরাটজুড়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, তাতে এক হাজার একশ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গুজরাট পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেকে ভট্ট বলেন, “যারা ট্রেনটিকে জ¦ালিয়ে দিয়েছিল, তাদের খবর দিয়ে ডেকে এনেছিল এই লোকটি। “ফারুকসহ প্রধান ষড়যন্ত্রকারীরা সবাই আমান গেস্ট হাউসে মিলিত হয়েছিল। সেখানে তাদের দলের অন্যানদের পরদিন ট্রেনটিতে হামলা করার নির্দেশনা দেয়া হয়। ট্রেনের বগিগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পেট্রলের যোগান নিয়েও তারা আলোচনা করে।” হামলার ওই সময় ফারুক গোধরার কাউন্সিলর ছিলেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচিত অন্যান্য স্বতন্ত্র কাউন্সিলরদের নিয়ে তিনি গোধরা পৌরসভার বোর্ড গঠন করেন, কংগ্রেস তাতে সমর্থন দেয়। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হলেও তিনি উমর আহমেদ ছদ্মনামে মুম্বাইতে আত্মগোপন করেছিলেন। গোধরা শহরের কাছাকাছি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় এসে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেন। শেষবার গোধরা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কালোল শহরে এসে তিনি ধরা পড়লেন। ২০১১ সালে গোধরা ট্রেন হামলার বিচারের রায়ে অভিযুক্ত ৩১ জনের মধ্যে ১১ জনকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়।