গুলিস্তানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রুমি ও মিজান গ্রেপ্তার

23

চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ফরিদ উদ্দিন রুমি ও মিশুক খান মিজানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে পুলিশের ওপর বোমা হামলার সঙ্গে নব্য জেএমবির পাঁচজনের একটি সেল জড়িত ছিল। তাদের পরিকল্পনায় এই হামলা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে সোমবার নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা তক্কার মাঠ এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকসহ নব্য জেএমবির ২ সদস্য ফরিদ উদ্দিন রুমি ও মিশুক খান মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
ফরিদ উদ্দিন রুমি আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক এবং মিজান নারায়ণগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র।
মনিরুল ইসলাম জানান, গত এপ্রিলে গুলিস্তানে পুলিশকে টার্গেট করে আইইডি হামলা করে জঙ্গিরা। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার সাথে সোমবার নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির সদস্যরা সরাসরি জড়িত। সম্প্রতি ঢাকায় যে সমস্ত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সে ঘটনায় যে ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য, আইইডি ও আলামত পাওয়া গিয়েছে, তার সাথে নারায়ণগঞ্জে পাওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য, আইইডি ও আলামতের মিল রয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন সম্প্রতি পুলিশের ওপর যে ৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে তা প্রতি মাসের শেষে ২০ তারিখের দিকে এবং রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। প্রত্যেক হামলায় ব্যবহত আইইডিগুলো ছিল রিমোট কন্ট্রোল। এরা পুলিশকে টার্গেট করার মূল কারণ হলো- নব্য জেএমবির সদস্যরা দেশের প্রচলিত সংবিধান ও আইন-কানুন মানে না। পুলিশ যেহেতু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাই পুলিশকে টার্গেট করে তারা এ হামলা চালায়। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে তারা। এ হামলার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ (গতকাল) মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় রুমির স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তবে সে ঘটনার সাথে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।