‘গুরুত্ব হারাচ্ছে টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক, সিনেমা, অনুষ্ঠান’

8

ছিলো না কোনো স্যাটেলাইট টেলিভিশন। শুধু বিটিভি। তবুও নাটক, সিনেমা আর অনুষ্ঠান দেখতে আগ্রহের কমতি ছিলো না দর্শকদের। বলা হচ্ছে, নব্বই দশকের কথা। এখন দেশে টেলিভিশন চ্যানের অভাব নেই। কিন্তু কোনো কিছু দিয়েই জয় করা যাচ্ছে না দর্শক হৃদয়। পুরনো আর নতুন সময়ের দর্শক, সবাই এখনো ডুবে আছে স্মৃতির পাতায়। বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের কথা। দেশে টেলিভিশন চ্যানেল বলতে শুধু বিটিভি। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবারে তিনটার সংবাদের পর ঘোষণা আসত পূর্ণদের্ঘ্য বাংলা ছায়াছবির। এর জন্য ছিলো দীর্ঘ অপেক্ষা। এখন দেশে টিভি চ্যানেল অনেক। আগের মতোই সপ্তাহঘুরে আসে শুক্রবার।

সিনেমাও চলে বিটিভিসহ আরো অনেকগুলোতে। কেবল কাক্সিক্ষত দর্শক নেই। হুমায়ুন আহমেদের সাড়া ফেলে দেয়া নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ তে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি বন্ধে মিছিল হয়েছিল রাজপথে। হুমকির চিঠি পেয়েছিলেন লেখক। এমন দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেছিল টেলিনাটকটি। শুধু নাটক আর সিনেমাই নয়। জনপ্রিয় ছিলো ছায়াছন্দ, আলিফ লায়লা, মীনা কার্টুন, মাটি ও মানুষ, সুর লহরী, মালঞ্চ, সিন্দবাদসহ আরো অনেক আয়োজন। যে বিজ্ঞাপন বিরক্তি ধরায় এখন। তা আগে জুগাতো মানুষের বিনোদন। এতোসব আয়োজন, তবু কেন দর্শক মন জয় করতে পারে না। এখনো কেন মানুষ আটকে আছে সেসব দিনরাত্রিতে।
অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আগের মতো সৃজনশীল লেখনী বা গল্পের অভাবেই দর্শক হারাচ্ছে দেশীয় টেলিভিশন শিল্প।
অভিনয়শিল্পী শর্মিলী আহমেদ বলেন, আগে চ্যানেল কম থাকলেও বাজেট ছিল বেশি। কিন্তু এখন চ্যানেল বাড়লেও বাজেট কমে গেছে। অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে বলে কাজের মান ধরে রাখা যাচ্ছে না।
অভিনেতা ও নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলেন, দক্ষ শিল্পীর অভাবে তৈরি হয়েছে এই সংকট। দক্ষ শিল্পী গড়ে তোলা গেলে ঘুরে দাঁড়াবে এই শিল্প।
অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান বলেন, মানুষের মধ্যে এখন সৃজনশীলতা নেই। সবাই বিনোদন প্রিয় হয়েছে উঠেছে। এতে সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে না। সামাজিক আবেদন না থাকায় দেশীয় গল্পগুলো মানুষ পছন্দ করছে না। বদলে গেছে সময়। ডিজিটাল যুগে মানুষের বিনোদনের চাহিদাও রূপ বদলেছে। কানকাটা রমজান,বাকের ভাই, বদি,মজনুদের মতো কেউ আর হয়ে উঠছে না দর্শকপ্রিয় কিংবদন্তি।