গুদাম সঙ্কটে কাঁচা পাট মজুদ হচ্ছে বিজেএমসির কারখানায়

59

gourbangla logoদেশ-বিদেশে পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দেশে উৎপাদনও বাড়ছে। কিন্তু সরকারি পাটকলগুলোর পাট মজুদে গুদাম সঙ্কটে ভুগছে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ পাট কিনে ফেলেছে। আর পাটপণ্যের চাহিদা থাকায় পাটকলগুলোয় দৈনিক উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পাট ক্রয় ও উৎপাদন বিজেএমসির দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গুদাম সঙ্কট। পর্যাপ্ত গুদাম না থাকায় ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ কুইন্টাল কাঁচা পাট বিজেএমসির বিভিন্ন কারখানায় মজুদ করা হয়েছে। বিজেএমসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বস্ত্র ও পাট মন্তন্ত্রালয় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। ওই আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সারাদেশে কাঁচা পাট, বস্তা বা ব্যাগের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ওই চাহিদা মেটাতে কাঁচা পাট ক্রয় ও পাটজাত পণ্য হেসিয়ান, স্যাকিং ও ইয়ার্নের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়া হয়। এখন সরকারের আইনটি বাস্তবায়নে বছরে পাটের ব্যাগের প্রয়োজন প্রায় ৭০ কোটি। সে হিসাবে প্রতি মাসে ৫ কোটি ২৫ লাখ ব্যাগ প্রয়োজন হবে। তার মধ্যে দুই মাসের প্রয়োজনীয় ব্যাগ (প্রতিটির ওজন ৭০০ গ্রাম) মজুদ রাখা হয়েছে। একই পরিমাণ ওজনের ৭০ কোটি ব্যাগ তৈরি করতে বছরে ২০-২২ লাখ বেল কাঁচা পাট প্রয়োজন হবে।
সূত্র জানায়, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩১ কুইন্টাল কাঁচা পাট কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে মোট ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪ কুইন্টাল পাট কেনা হয়েছে। সে হিসাবে গত চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ শতাংশ পাটই কেনা হয়ে গেছে। আর গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মজুদকৃত পাটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ কুইন্টাল। আর অর্থবছর শুরুর সময় পাটের মজুদ ছিল ৩৫ হাজার ১২ কুইন্টাল। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাট মজুদ আছে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে। ওই অঞ্চলের ৯টি পাটকলে মজুদের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৩ কুইন্টাল। ঢাকা অঞ্চলে মজুদকৃত পাটের পরিমাণ ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ কুইন্টাল। সবচেয়ে বেশি ৭৩ হাজার ৩১৩ কুইন্টাল পাট মজুদ রয়েছে ইউএমসি জুট মিলে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৭টি পাটকলে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭৭ কুইন্টাল পাট মজুদ আছে। ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাট মজুদ রয়েছে হাফিজ জুট মিলস লিমিটেডে।
সূত্র আরো জানায়, গত অর্থবছরে বিজেএমসির দৈনিক উৎপাদন ছিল ৩৩৬ টন। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই ২২টি কারখানায় দৈনিক উৎপাদন হয়েছে ৬৫০ টন। অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিজেএমসির মোট উৎপাদন ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টন। বিক্রয়ের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ৫২৬ দশমিক ৪৪ টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লোকসান ছিল ৬১৯ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাটের উৎপাদন ছিল ৯৫ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৮৩ টন। বিক্রয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪ দশমিক ৭৮ টন। সে অর্থবছর লোকসান হয়েছিল ৬৯৩ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা। কিন্তু ১৯ বছর পর ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা লাভ করে বিজেএমসি। পরে ফের লোকসানে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তার মধ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭৯ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩৮৫ কোটি ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৫২ কোটি টাকা লোকসান করে বিজেএমসি।
এ প্রসঙ্গে বিজেএমসির চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান জানান, পাট কেনা থেকে শুরু করে উৎপাদন-সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে অতীতের তুলনায় বিজেএমসির বর্তমান অবস্থান বেশ ভালো। আগের বছরগুলোয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাট কেনা সম্ভব হতো না। এবারের চিত্রটি ব্যতিক্রম। অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক পাট কেনা হয়েছে। এ বছর পাটের মজুদ বাড়ছে। অবশ্য বাজারে বিজেএমসির পণ্যের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে সময়মতো পণ্য বিক্রি করতে না পারলে গুদাম-সঙ্কট দেখা দিতে পারে।