গুজরাটে এবার বন্ধের ডাক প্যাটেল সম্প্রদায়ের, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

113

06ভারতের বিজেপি শাসিত গুজরাটে প্যাটেল/পাটিদারদের সংরক্ষণ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার বন্ধের ডাক দেয়া হয়েছে। সরদার প্যাটেল গ্রুপ এবং পাটিদার অনামত সমিতির ডাকে বন্ধকে কেন্দ্র করে কোথাও যাতে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয় সেজন্য রাজ্য জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেহসানা, সুরাট, আহমেদাবাদ, রাজকোট, ভদোদরা এবং সাবরকান্ঠাতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বরাছা এবং কাপদরা থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গুজরাটের মুখ্যসচিব জি আর আলোরিয়া বলেন, তিনটি শহরে ৫ কোম্পানি র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া গোটা রাজ্যজুড়ে ২০ কোম্পানি স্টেট রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকের পরে আলোরিয়া বলেন, ‘নিয়মিত পুলিশ বাহিনী ছাড়াও আমরা আহমেদাবাদ এবং মেহসানাতে ২ কোম্পানি করে এবং সুরাটে ১ কোম্পানি র‌্যাফ মোতায়েন করেছি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা কেন্দ্রের কাছে আরো ১০ কোম্পানি র‌্যাফ বরাদ্দের কথা বলব। শিক্ষা এবং চাকরিতে ওবিসি কোটায় সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন করছেন প্যাটেল/পাটিদার সম্প্রদায়ের মানুষজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটে গতবছর আগস্টে হার্দিক প্যাটেলের নেতৃত্বে এই আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিলে সেসময় ৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়। তাছাড়া বর্তমানে হিংসাত্মক হয়ে ওঠা মেহসানা খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব জেলা হওয়ায় এর বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দি বেন প্যাটেলকে। মূলত সংরক্ষণের পাশাপাশি তাদের নেতা হার্দিক প্যাটেলের মুক্তির দাবিতে রোববার ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেন প্যাটেলরা। গতকাল বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের মন্ত্রী নীতিন প্যাটেল এবং রজনীকান্ত প্যাটেলের দফতরে ভাঙচুর করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়াসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পুলিশকে লাঠি চালানোর পাশাপাশি, পানি কামান ব্যবহার এবং কাঁদানে গ্যাসের গোলা ছুঁড়তে হয়। বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। গত আগস্টে আন্দোলনের জেরে দেশদ্রোহের অভিযোগে প্যাটেল সম্প্রদায়ের তরুণ নেতা হার্দিক প্যাটেল এখন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।