খালেদার ১০ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে

78

khaledaবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র্রদ্রোহের একটি এবং নাশকতার নয় মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। এই শুনানির জন্য আগামি ১ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে ওই দিন খালেদাকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা। এসব মামলায় গতকাল সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও খালেদার অসুস্থতার কথা বলে তার আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ রাখেন বলে এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি তাপস পাল জানান। এই দশ মামলার মধ্যে আটটি দারুসসালাম থানার এবং একটি যাত্রাবাড়ী থানার নাশকতার মামলা। আর অন্য মামলাটি করা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে।
রাষ্ট্রদ্রোহ: গতবছর ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে। ওই বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাবের পরিচয় রয়েছে অভিযোগ করে গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকার হাকিম আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। ওই মামলা করার আগে তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও নেন। ওই মামলায় পুলিশের দেওয়া অভযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ১০ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দেন। হাকিম আদালতে এ মামলায় জামিন পাওয়া খালেদা এ আদালত থেকেও জামিন পান।
দারুস সালামের ৮ মামলা: দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিতে গত বছরের ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে বাধা পেয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ ডাকেন খালেদা জিয়া। নব্বই দিনের এই কর্মসূচিতে বহু গাড়ি পোড়ানো হয়, অগ্নিসংযোগ হয় বিভিন্ন স্থাপনায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান প্রায় দেড়শ মানুষ। তখন নাশকতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অসংখ্য মামলা করে। তার মধ্যে দারুস সালাম থানায় দায়ের করা নয়টি মামলায় খালেদাকে হুকুমের আসামি করা হয়, যার মধ্যে আটটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনের। গত মে ও জুন মাসে খালেদাসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে এসব মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ১০ অগাস্ট ঢাকার ১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আট মামলায় জামিন পান খালেদা জিয়া। সবগুলো মামলাই অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর বিস্ফোরক মামলা: গতবছর বিএনপির লাগাতার অবরোধ-হরতালের মধ্যে ২৩ জানুয়ারি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হলে অগ্নিদগ্ধ ও আহত হন ৩০ জন। এর মধ্যে নূর আলম নামে এক ঠিকাদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কে এম নুরুজ্জামান দুটি মামলা করেন, যাতে অবরোধ আহ্বানকারী বিএনপি চেয়ারপারসনকে করা হয় হুকুমের আসামি। তদন্ত শেষে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বশির উদ্দিন গত বছরের ৬ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে খালেদাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।