ক্যালিগ্রাফি ও হ্যান্ড রাইটিংয়ে সাড়া : গিনেস বুকে নাম লেখানোর ইচ্ছে সিফাতুল্লাহর

16

ক্যালিগ্রাফি ও হ্যান্ড রাইটিং এর ওপর বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন সিফাতুল্লাহ ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী। এনিয়ে দেশ বিদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ইচ্ছে গিনেস বুকে রেকর্ড করা। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় ৫টি পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর লেখার প্রতিভা দেশ-বিদেশে সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। সিফাতুল্লাহ ইসলাম রাজশাহী নিউ গভার্মেন্ট ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বাবা শরিফুল ইসলাম একজন স্কুল শিক্ষক। জন্মসূত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাস করছেন উপজেলা সদরে রহনপুর পৌর এলাকার একটি বাসা বাড়িতে।
জানা গেছে, সিফাতুল্লাহ ছোট বেলা থেকে মেধাবী। বোর্ড পরীক্ষার প্রতিটিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে বিভিন্ন ফন্টের লেখার কৌশল বিষয়ে অবগত হন। শুরু করেন লেখালেখি। চেষ্টা করতে থাকেন, সফলও পান। পরবর্তীতে তিনি ইউটিউব দেখে ভূলগুলো সংশোধন করেন। এছাড়া ক্যালিগ্রাফি উপলব্ধি করেন। কিছুদিনের মধ্যে ক্যালিগ্রাফি লেখায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এখন তিনি ৬ থেকে ৭ রকমের ফন্ট লেখার দক্ষতা অর্জন করেছেন। সিফাতুল্লাহ রাইটিং একাডেমির ফাউন্ডার ও calligrapher এবং calligraphy and handwriting নিয়ে কাজ করছেন। সাথে শিখিয়ে যাচ্ছেন।
সিফাতুল্লাহ বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ফন্টের লেখার চেষ্টা করি। লেখার সময় প্রথমে সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে চেষ্টার সঙ্গে সফল হয়েছি। তিনি জানান ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় হতে বিভিন্ন ফন্টে লেখার আগ্রহ জাগে তাঁর। করোনা কালীন কলেজ বন্ধ হলে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ক্যালিগ্রাফি হ্যান্ড রাইটিং ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন। পুরস্কারসহ সার্টিফিকেট অর্জন করেন। ইউটিউব চ্যানেল ও টিকটক এ্যাকাউন্টে হাতের লেখা ভিডিও বানিয়ে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। আস্তে আস্তে ফলোয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া অল্প বয়সে বিভিন্ন হ্যান্ডরাইটিং ইভেন্টে বিচারক হিসেবে ও দায়িত্ব পালন করেছেন। সিফাতুল্লাহ জানানা তিনি হ্যান্ড রাইটিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্য। তিনি চেষ্টা করছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে। এজন্য সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সিফাতুল্লাহ। তাঁর শিক্ষক আশিকুর রহমান সাগর বলেন, ছাত্রাবস্থায় সিফাতুল্লাহ অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি ও হ্যান্ড রাইটিং নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। হাতের লেখাও সুন্দর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
সিফাতুল্লাহর বাবা শরিফুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকে তাঁর ছেলে শান্ত প্রকৃতির। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র সিফাতুল্লাহ ইসলাম। সব পরীক্ষায় ভালো ফল করে উত্তীর্ণ হয়। ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পায়। লেখার প্রতি আগ্রহ দেখে চীন ও ভারত থেকে অনলাইনের মাধ্যমে কলম ও কালি কিনে দেয়। ক্যালিগ্রাফি ও হ্যান্ড রাইটিং এর উপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকারী হয়েছে দেখে বাবা হিসেবে আমি গৌরবান্বিত । ভবিষ্যতে তার সাফল্যের জন্য সকলের সহযোগিতার প্রয়োজন।