কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

31

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ৩টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে আটক হওয়া কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) সদর দপ্তর কল্যাণপুরে এইসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেনÑ বিজিবির রংপুর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বেনজীর আহমেদ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মাদকদ্রব্য চোরাচালান বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের জন্য আমাদের বলা হয়েছে। আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সেই নীতি অনুসরণ করে মাদক চোরাচালান বন্ধে করছে। আমরা চেষ্টা করছি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যে মাদক আসছে তা বন্ধ করার। তিনি বলেন, সারাদেশে ৫৯টি বিজিবি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। সারাবছরে যদি এক হাজার কোটি টাকার মতো মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয় তাহলে ভাবুন তো, আমাদের অর্থনীতি থেকে প্রতিবছর কত টাকা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? মাদকের পেছনে খরচ করা এই টাকা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখতে পারছে না।
বেনজীর আহমেদ বলেনÑ একটি বিওপিতে ১২ জন লোক থাকে। এই লোক দিয়ে কি সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব? তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের জীবন ধারণে আমরা যদি অবদান রাখতে পারি, তাদেরকে যদি আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে তারা মাদক চোরাচালানের দিকে ঝুঁকে পড়বে না।
তিনি আরো বলেন, মাদক চোরাচালান বন্ধে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রেরও ভূমিকা রয়েছে। মাদকবিরোধী সংবাদগুলো প্রথম পাতায় ছাপা হলে মানুষের দৃষ্টিগোচর হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেনÑ রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান। সূচনা বক্তব্য দেনÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক মো. নাহিদ হোসেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেনÑ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খাঁন।
অনুষ্ঠানে বিজিবি কর্মকর্তা, র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি হতে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)’র, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)’র এবং ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রহনপুর ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)’র অভিযানে আটক হওয়া বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল- ২ হাজার ৩২১ বোতল বিদেশী মদ, ১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৭৫০ লিটার দেশী মদ, ১৪০ দশমিক ৩০০ লিটার মদ তৈরির উপকরণ, ১ লাখ ২১ হাজার ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল, ৪০৭ কেজি ২৪৯ গ্রাম গাঁজা, ১৫২ কেজি ৫৪৪ গ্রাম হেরোইন, ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৭ পিস ইয়াবা, অনাগ্রা ট্যাবলেট ১৯৮ পিস, সানাগ্রা ট্যাবলেট ৬৪ পিস, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ১ হাজার ৮৫০ পিস, ২ লাখ ৮ হাজার ৩৭৮ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৯০৫ দশমিক ২৭০ কেজি পাতার বিড়ির গুঁড়া, ৭৮৩ কেজি বিড়ির মসলা, ১ হাজার ৩৫৩ কেজি বিড়ির পাতা, ৫০৫ বোতল নেশা-জাতীয় সিরাপ, ৮ হাজার ৬৩৪টি নেশা-জাতীয় ইঞ্জেকশন।
এর মধ্যে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)’র ৩৮ হাজার ২৫৬ বোতল ফেনসিডিল, ২২০ কেজি ৭৭ গ্রাম গাঁজা, ৩ কেজি ৬৫৪ গ্রাম ৫ পুরিয়া হেরোইন, ৭২ হাজার ৮৫১ পিস ইয়াবা, ৬৪ পিস সানাগ্রা ট্যাবলেট, ১৯৮ পিস অনাগ্রা ট্যাবলেট, ভারতীয় পাতার বিড়ি ৭ হাজার ২৪৬ প্যাকেট।
৫৩ বিজিবির ৪৪০ বোতল বিদেশী মদ, ৪৩ লিটার দেশী মদ, ২৩ হাজার ২৭২ বোতল ফেনসিডিল, ১১০ কেজি ২৩৪ গ্রাম গাঁজা, ৮৮ কেজি ৬৯৪ গ্রাম হেরোইন, ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০৫ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৮৫০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ৪৮ হাজার ৪৪৩ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, বিড়ির পাতার গুঁড়া ৪৮৪ কেজি, বিড়ির পাতার গুঁড়া, ১ হাজার ৩০০ কেজি ৫০০ গ্রাম বিড়ির পাতা, ১৮০ বোদল নেশা-জাতীয় সিরাপ, ৮৯টি নেশা-জাতীয় ইঞ্জেকশন।
৫৯ বিজিবির ১ হাজার ৮৮১ বোতল বিদেশী মদ, ১ হাজার ৭০৩ লিটার দেশী মদ, মদ তৈরির উপকরণ ১৪০ লিটার, ৬০ হাজার ৬৭ বোতল ফেনসিডিল, ৭৬ কেজি গাঁজা, ৬০ কেজি ১৯৬ গ্রাম হেরোইন, ৪ লাখ ১৫ হাজার ৭৪১ পিস ইয়াবা, ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৯ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৪২২ কেজি বিড়ির পাতার গুঁড়া, বিড়ির মসলা ৭৮৩ কেজি, ৫৩ কেজি বিড়ির পাতা, ৩২৫ বোতল নেশা-জাতীয় সিরাপ, ৮ হাজার ৫৪৫টি নেশা-জাতীয় ইঞ্জেকশন, ২২১ কেজি তামাক ছিল।