কে এই ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানের মানুষ?

55

আসছে চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। মেজবাউর রহমান সুমনের এই সিনেমার গান ‘সাদা সাদা কালা কালা’ এখন মুখে মুখে ঘুরছে। যখন একটি গান ছড়িয়ে পড়ে তখন নেপথ্যের মানুষকে খোঁজে সবাই। গানটির গীতিকার ও সুরকার হাশিম মাহমুদ। ‘তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি’- বছরখানেক আগে অনলাইনে ভাইরাল হয়। তখনো মানুষ ব্যাপক শেয়ার করছিল গানটি। ভিডিওতে দেখা যায়, দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ গানটি গাইছেন। কোনো রকম বাদ্যযন্ত্র ছাড়া খালি গলায় গাইছিলেন তিনি। বৃদ্ধের পরিচয় তখনো অজানা, অনেকে তাঁর নামও শোনেননি। তিনিই হাশিম মাহমুদ। এই হাশিম মাহমুদকে নিজের সিনেমায় যুক্ত করলেন মেজবাউর রহমান সুমন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের কাছে হাশিম মাহমুদ খুবই পরিচিত। তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের আড্ডার সম্পর্ক সুমনের। রয়েছে অনেক মধুর স্মৃতিও। তবে মাঝে নানা ব্যস্ততার কারণে হাশিম থেকে আলাদা দূরে সরে যান। অনেকটা যোগাযোগের বাইরে। কিন্তু ‘হাওয়া’তে যে হাশিমের গানটিই লাগবে। তাই টানা চার মাস খুঁজে হাশিম মাহমুদকে বের করা হয়। এরপর ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটির অনুমতি নেওয়া হয়। সুমন বলেন, ‘ঠিক করেছিলাম গানটা সিনেমায় রাখব। খুঁজেও হাশিম ভাইকে পাচ্ছিলাম না। চারুকলায় আসেন না তিনি। পরে জানতে পারি তিনি অসুস্থ। হাশিম ভাইকে খুঁজে পেলাম নারায়ণগঞ্জে।

তাঁকে দিয়ে গানটি গাওয়াতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি তাঁর অসুস্থতার কারণে। ’ নির্মাতা বলেন, ‘হাশিম ভাই এখন সিজোফ্রেনিক রোগী। চারুকলায় যখন হাশিম নিয়মিত ছিলেন, তখনো এই রোগটি ছিল তাঁর। রোগটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারুকলায় অনিয়মিত হয়েছেন। স্ত্রী-সন্তান নেই তাঁর। পরিবারে তাঁর ভাইসহ আরো কিছু আত্মীয়স্বজন রয়েছেন, তাঁরাই এখন হাশিমের দেখাশোনা করেন। ’‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে খমক ছাড়া কোনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। নৌকার সব কাঠ, বাঁশ, হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গানটি কম্পোজ করেছেন ইমন চৌধুরী। আর এসব অ-যন্ত্রগুলো বাজিয়েছেন মিঠুন চাকরা।