কৃষকের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে বিল কুজনের বাতাস, পুনর্ভবার পানি বৃদ্ধিতে নিমজ্জিত ৩ হাজার বিঘার পাকা ধান

25

বিল কুজনের অবস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে। এর পাশে আরো কয়েকটি বিল রয়েছে। এই বিল এলাকায় জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর। বিলের পাশ দিয়েই প্রবাহিত পুনর্ভবা নদী। নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিমজ্জিত হয়েছে বিল এলাকা। তলিয়ে গেছে ৪০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। বেশিরভাগই বিল কুজনের। সেই সাথে তলিয়ে গেছে কৃষকদের স্বপ্নও। তাদের চাপা কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে বিল কুজনের বাতাস।
ধানকাটার শেষ মুহূর্তে এসে কৃষকের মুখে হাসির বদলে হাহাকার ফুটে উঠেছে। এদিকে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক সংকটে ভুগতে হচ্ছে তাদের। শ্রমিকের মজুরির পাশাপাশি নৌকার ভাড়াও গুণতে হচ্ছে বেশি। শুধু জমির ধানই নয়, কেটে রাখা ধানও তলিয়ে গেছে।
এদিকে বিলের পানি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো শত শত হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। তাদের দাবি পুনর্ভবা নদী খননসহ বিল কুজন ঘাটে দ্রুতই স্লুইসগেট বা সেতু নির্মাণ করা হউক।
সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিন থেকে পুনর্ভবা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিলের নি¤œাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটেছে। উজানের ঢলের পানিতে জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের মধ্যে চলছে হাহাকার। যে যতটুকু পারছেন ধান কেটে উঁচু জায়গায় রাখার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক সংকটে অনেকে ডুবে যাওয়ার পাকা ধান কাটতে পারছেন না। সীমান্তবর্তী এলাকার বিল কুজন, সুকডোবা, দুবইলনাইন, চন্দের বিলসহ বেশ কয়েকটি বিলের জমির পাকা ধান নিমজ্জিত হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণটা বিল কুজনেই বেশি।
সেখানে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্রুতই পানি ঢুকে পড়ায় কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারেন নি। এখন অনেকে ডুব মেরে ধানের শীষ কাটছে। যারা ভেজা ধান কেটেছেন, তাদের অনেকের ধান গেজে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ওই বিলগুলোতে ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমি রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে।
চেরাডাঙ্গার গ্রামের কৃষক খায়রুল ইসলাম জানান, তার ৭ বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাকি ৫ বিঘা জমির ধান কেটে আনতে পারছেন না ব্রিজ না থাকার কারণে।
আরেক কৃষক রবিউল জানান, কুজইন বিলে সাড়ে ৫ বিঘার জমির ধান কেটে জমিতে রাখা ছিল। কোনো কিছু বোঝার আগে ঢলের পানিতে তার ধান তলিয়ে গেছে।
কথা বলতে বলতেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শুধু রবিউলই নন, তার মতো অবস্থা বিলে জমি থাকা সকলের।
ভোলাহাট উপজেলা থেকে ধান কাটতে এসেছেন জাব্বার। তিনি জানান, ৯০০ টাকা করে মজুরি নিচ্ছেন। এও জানান, নৌকায় ধান নিয়ে আসতে ৭০০ টাকা থেকে হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে।
কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, কুজন ঘাটে একটি ব্রিজ বা স্লুুইসগেট তৈরি হলে প্রতিবছরের মতো এ অবস্থা হতো না। তারা চান, এ অঞ্চলের কৃষকের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে দ্রুত এর সমাধানের ব্যবস্থা করা হউক।
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, কৃষকরা দিন-রাত বিলের ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারও ২২ বিঘার জমির ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিল কুজন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভির আহমেদ সরকার। তারা কৃষকের দুরবস্থা নিজ চোখে দেখেন। তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেয়া হবে। এলাকায় জনগণ ও কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি স্লুইসগেট ও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।