কৃচ্ছ্রতা সাধনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

4

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, সঞ্চয় করা এবং সবপর্যায়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মনোযোগী হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আবারো সবাইকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় বাংলাদেশের জনগণকে কোনো দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে না হয়। আমাদের নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২৪তম জাতীয় সম্মেলন ও ৪৩তম কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃচ্ছ্রতা সাধনের পাশাপাশি তিনি সকলকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ায় দেশের জনগণকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এখন থেকে আমাদের সকলকেই কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে হবে, সঞ্চয় করতে হবে এবং কোনোমতেই কোনো কিছুতেই আমরা অতিরিক্ত ব্যয় না করি। আর উৎপাদন বাড়াতে হবে। নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে সবসময় যেন স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে পারি সেই ব্যবস্থাও আমাদের নিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যায় পড়ছে, সেখানে তারা রেশনিং করছে। তারা পানি গরম করার ব্যবস্থায় ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রেখেছে। তাদের হিটিং সিস্টেম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কাজেই বিভিন্ন পণ্যের দাম যেহেতু অতিরিক্ত বেড়ে গেছে তাই আমাদেরও কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে দেশের সব ঘর আলোকিত করেছে, কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেই খরচ কমাতেও কিছু ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেন, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে হবে সরকার সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। ‘আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং যদি আমরা তা করি, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না,’ তিনি যোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক পেশাগত ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বরেণ্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে আইডিইবি স্বর্ণপদক প্রদান করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হালিম বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর করিম খান এবং বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী আইডিইবি স্বর্ণপদক লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আইডিইবি সভাপতি প্রকৌশলী এ কে এম এ হামিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শামসুর রহমান স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে আইডিইবি’র বহুমাত্রিক কর্মকা-ের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ’ প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নিকট ‘বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ’ মুজিববর্ষের লোগোও হস্তান্তর করে।
বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা চমৎকার ভূমিকা রাখছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও আমি বলব যে, যেসমস্ত প্রকল্প আমাদের একেবারে আশু শেষ করা প্রয়োজন আমরা সেগুলো দ্রুত শেষ করব। যেহেতু এখনই প্রয়োজন নাই সেগুলো আমাদের ধীরগতিতে হবে। আমরা অহেতুক টাকা ব্যয় করব না। কিন্তু যেগুলো আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো আমরা করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের পরপরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। সমস্যা সমাধানে সংকট উত্তরণে চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকে সারা বিশ্বে একটা দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এর প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। যার পক্ষে যা সম্ভব, তাই যেন উৎপাদন করে।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্য অর্জনে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে জানিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।