কুকুরে কামড়ালে হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নিন : সিভিল সার্জন এস এম রশিদ

21

জলাতঙ্ক রোগের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ বলেছেন- জলাতঙ্ক একটি মরণব্যাধি, যা প্রাণী থেকে মানুষে ও প্রাণী থেকে প্রাণীতে সংক্রমিত হয়। কুকুর, বিড়াল, বানর, বেজি, শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ে এ রোগটি সংক্রমিত হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুকুরের কামড়ে রোগ হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অবধারিত। তবে আক্রান্ত হওয়ার আগে চিকিৎসা নিলে অর্থাৎ ভ্যাকসিন নিলে কেউ মারা যাবে না এটাও নিশ্চিত। কুকুর, বিড়াল, বানর, বেজি, শিয়ালের কামড় বা আঁচড় দিলে কবিরাজের কাছে ঝাড়ফোঁক না করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করে ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য তিনি জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সিভিল সার্জন বলেন- কুকুরকে বিরক্ত না করে কুকুরের প্রতি মানবিক হতে হবে। কেননা, কুকুর হচ্ছে প্রভুভক্ত প্রাণী। তাকে বিরক্ত না করলে সুস্থ কুকুর কখনই মানুষকে বা অন্য কোনো প্রাণীকে কামড় দেয় না।
সিভিল সার্জন তার বক্তব্যে জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর কাজ করছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন কুকুরের কামড় খেয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
“জলাতঙ্ক : মৃত্যু আর নয়-সবার সাথে সমন্বয়”- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও পালিত হয় দিবসটি।
সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. গোলাম রাব্বানী। তিনি ভ্যাকসিন প্রদানের স্পট শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালে সীমাবদ্ধ না রেখে সিভিল সার্জন অফিসেও করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।
ডা. গোলাম রাব্বানীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন জানান, উপজেলা পর্যায়েও ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেবেন। তিনি বলেন- আগে ভ্যাকসিন স্বল্পতা ছিল এখন সহজলোভ্য। বিনামূল্যে সরকার ভ্যাকসিন দিচ্ছে।
সভায় প্রাণিসম্পদের ওপর বক্তব্য দেনÑ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এমন সভা জনসাধারণকে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে করার পরামর্শ দেন। বক্তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জলাতঙ্ক সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহনাজ ফ্লোরা। স্বাগত বক্তব্য দেন জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন নাহার। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন- ডা. শামসুল আলম, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মোমেনা খাতুনসহ অন্যরা।
এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়ালিউল ইসলাম খান, জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. কবীর উদ্দিন, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আস শামস তিলকসহ অন্যরা।