কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত

80

04-kashmir-securityভারতের কাশ্মির রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে স্কুলের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিহত ও অপর সাতজন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাজ্যের কুপওয়ারা জেলায় এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। নিহত ছাত্রের নাম আরিফ আহমেদ। বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর একটি শিবির লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছোড়ে। এ সময় অপর তিনজনের সঙ্গে আরিফও গুলিবিদ্ধ হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের কুপওয়ারার আরেকটি ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরো চারজন আহত হন। এই নিয়ে কাশ্মিরে গেল চারদিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হলেন। তিন দিন আগে মঙ্গলবার শ্রীনগর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের হান্দারা শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে উদীয়মান একজন ক্রিকেটার ও একজন বৃদ্ধাও রয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার কুপওয়ারাতে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া কাঁদুনে গ্যাসের শেলের আঘাতে অপর এক ব্যক্তি মারা যান। এসব মৃত্যুর ঘটনায় কাশ্মির উপত্যকাজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা আরো বেড়েছে। এক সেনা সদস্য এক স্কুল ছাত্রীকে যৌননিপীড়ন করেছে, এমন অভিযোগ উঠার পর কাশ্মিরজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা মোবাইল ফোনে ধারণ করা এক ভিডিওতে ওই স্কুলছাত্রীকে এক বালককে দোষারোপ করতে দেখা যায়। রাজ্যের ক্ষমতাসীন পিডিপি দলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সংযত আচরণের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, হত্যাকা- অগ্রহণযোগ্য। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কুপওয়ারার প্রধান সেনা ছাউনিটি ঘিরে ফেলে পাথর নিক্ষেপ শুরু করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছোড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় পুরো রাজ্যজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হান্দারা, কুপওয়ারা ও কাশ্মিরের অপর কয়েকটি এলাকায় সান্ধ্য আইন ও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গুজব নিয়ন্ত্রণে কাশ্মির উপত্যকায় মোবাইলের ইন্টারনেট সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।