কলম্বিয়ার শান্তিচুক্তি বিশ্বের জন্য ‘আশার আলো’

68

05-colombianনোবেল পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় কলম্বিয়ার শান্তিচুক্তি যুদ্ধবিক্ষুব্ধ বিশ্বের জন্য ‘আশার আলো’ বলার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে বিশ্বকে ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি খুব সম্ভবত বিশ্বজুড়ে হওয়া অন্যান্য যুদ্ধের তুলনায় ‘এমনকি অধিক ক্ষতিকর’। ‘ঐতিহাসিক’ শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘাটান সান্তোস। এর পুরস্কার হিসেবে এবছর শান্তিতে নোবেল উঠলো তার হাতে। ৭ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান পঞ্চম কাচি কুলমান সান্তোসের নাম ঘোষণা করে বলেন, ৫২ বছরের যে যুদ্ধ অন্তত দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, সেই যুদ্ধের অবসানে ‘দৃঢ় অবস্থানের জন্য’ প্রেসিডেন্ট সান্তোসকে দেওয়া হচ্ছে এ পুরস্কার। গত শনিবার নরওয়ের অসলো সিটি হলে নোবেল কমিটির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন সান্তোস। এ পুরস্কার গ্রহণের জন্য সান্তোস ৪০ জনের একটি দল নিয়ে অসলো গেছেন। ওই দলে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয় যারা শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তারা ছাড়াও যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় ১০ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের পর সর্বপ্রথম পাঁচ দশকের যুদ্ধে নিহতের পরিবারের প্রতি তিনি সম্মান জানান। বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাঁধা হলো, যুদ্ধের শিকার ব্যক্তিরাই ক্ষমা করে দিতে, পুনর্মিলন এবং ঘৃণা শূন্য হৃদয়ে ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহীদের অন্যতম। অথচ এমন অনেকেই আছে, যারা যুদ্ধের ভয়াবহতার সরাসরি শিকার হয়নি তারা বরং শান্তির পথ মেনে নিতে অনিচ্ছুক থাকে। আমি যুদ্ধের সময় থেকে কলম্বিয়ার জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষার সময়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। শান্তি প্রতিষ্ঠার সময়েও আমি প্রেসিডেন্ট। এই সময়গুলোতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা আপনারা আমাকে বলার অনুমতি দিন। নিজের অভিজ্ঞতা আলোকে আমি বলছি, যুদ্ধ শুরু করার চাইতে শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি কঠিন। গত শনিবার পুরস্কার হিসেবে একটি সোনার মেডেল, ডিপ্লোমা এবং ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার) অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন সান্তোস। কলম্বিয়ার শান্তিচুক্তি যুদ্ধবিক্ষুব্ধ বিশ্বের জন্য আশার রশ্মি বলেও মন্তব্য করেন সান্তোস। তিনি বলেন, “অসহিষ্ণু ও সংঘাতময় বিশ্বের জন্য কলম্বিয়ার শান্তিচুক্তি আশার আলো। এটা প্রমাণ করেছে, শুরুতে অসম্ভব মনে হলেও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এমনকি সিরিয়া, ইয়ামেন বা দক্ষিণ সুদানেও শান্তি ফেরানো সম্ভব। মাদক নিয়ে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তনের সময় হয়েছে। তথাকথিত এই যুদ্ধে কলম্বিয়াকেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখতে হয়েছে এবং ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিউবা আর নরওয়ের মধ্যস্থতায়, ভেনেজুয়েলা ও চিলির সহযোগিতায় চার বছর আলোচনার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফার্ক নেতা তিমোশেনকো ও কলম্বিয়ার মধ্য-ডানপন্থি সরকারের প্রধান হুয়ান সান্তোস ওই চুক্তিতে সই করেন। যদিও এক সপ্তাহের মাথায় ২ অক্টোবর কলম্বিয়ার জনগণ ঐতিহাসিক ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে; চুক্তির বিপক্ষে পড়ে ৫০.২৪ শতাংশ ভোট।