করপোরেট ট্যাক্স চুক্তিতে একমত শীর্ষ নেতারা

4

করপোরেট ট্যাক্স বিষয়ক চুক্তিতে একমত হয়েছেন জি-২০ ভুক্ত দেশের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, বৃহৎ ব্যবসার লভ্যাংশের ওপর শতকরা নূন্যতম ১৫ ভাগ আয়কর বা ট্যাক্স দিতে হবে। গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কম আয়করের সুযোগ নিয়ে তাদের লভ্যাংশ আবার ব্যবহার করছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিকে আরো সুসংহত করতে নেতারা বৈশ্বিক এই চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন। চুক্তিটি উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তা অনুমোদন হতে পারে। বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৩ সালের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন এই চুক্তিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জটিল সময়ে ঐতিহাসিক চুক্তি বলে উল্লেখ করেছেন। টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সেগুলোর সঙ্গে থাকা কর্মীরা উপকুত হবেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক বড় বড় সংস্থাকে অধিক পরিমাণ কর দিতে হবে। ইতালির রোমে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী জি২০ শীর্ষ সম্মেলন। মহামারি করোনার পর এই প্রথম শিল্পোন্নত দেশগুলোর সরকারপ্রধানরা মুখোমুখি হয়েছেন।

এ সম্মেলনে মহামারি সংকট ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বেশি প্রধান্য পেয়েছে। জি২০ সম্মেলনের পরপরই স্কটল্যান্ডে গ্লাসগোতে বসছে কপ২৬ এর আসর। তাই এই সম্মেলনে সবার নজর ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস বা ক্ষতিকর গ্যাস কার্বন নিঃসরণ বন্ধে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর নেতারা কী অঙ্গীকার করেন, সেই দিকে। বিশ্বের শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোর সংগঠন জি২০ সদস্য হিসেবে রয়েছে ১৯ টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে সদস্য সবগুলো সবগুলো দেশের সরকারপ্রধানরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করলেও কার্বন নিঃসরণে বিশ্বের এক নম্বরে থাকা চীন এবং শীর্ষ পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রাজিলের নেতারা এ সম্মেলনে না আসার কথা জানানোয় অনেকটা সংশয়ের মুখে পড়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন জি২০ শীর্ষ নেতারা। বলা হয়েছে, এটা করতে প্রতিটি দেশকে অর্থপূর্ণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে যে খসড়া করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বছরে ১০,০০০ কোটি ডলার অর্থ উন্নত দেশগুলোকে তুলে দিতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সঙ্কট মোকাবিলায়, যা দিয়ে তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে পারে। শীর্ষ সম্মেলনে অবশ্য কোনো নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নেই। বরং নেতারা নিজ নিজ দেশে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কী করবেন, সেই অঙ্গীকারের কথাই শোনাবেন। আর বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা পরবর্তী দেড় সপ্তাহ ধরে আলাপ-আলোচনার পর একটি ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করবেন, যা ১২ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে।