কমলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষক সায়েমের সাফল্য

20

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের কমলাকান্তপুর গ্রামের দুবাই ফেরত সায়েম আলী আবারো বিদেশ যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবার তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যেতে মনস্থির করেন। কিন্তু যেতে পারছিলেন না। এরকম অবস্থায় তিনি স্মার্টফোনে ইউটিউব দেখে মাল্টা ও কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হন।
অল্প শিক্ষিত সায়েম প্রমাণ করেন ইচ্ছে থাকলে এবং পরামর্শ পেলে ভালো কিছু করা সম্ভব। করেছেনও তাই। তবে তিনি মাল্টা ও কমলা চাষেই থেমে থাকেননি। পাশাপাশি চাষ করছেন অন্য ফসলেরও।
সায়েম আলী ইউটিউব দেখে মাল্টা ও কমলা চাষের জন্য মনস্থির করেন। নিজগ্রাম কমলাকান্তপুর থেকে অল্পদূরে বহরম এলাকায় বাৎসরিক ১৬ হাজার টাকায় ১২ বছর মেয়াদে ৬ বিঘা জমি লিজ নেন। মাল্টা ও কমলা চাষের উপযোগী কিনা তা জানার জন্য মাটিও পরীক্ষা করান। পরীক্ষার পর কৃষি অফিস জানায়, এই মাটি দোআঁশ মাটি, এই মাটি মাল্টা ও কমলা চাষের উপযোগী। এরপর ২০২১ সালে কৃষি অফিসের পরার্শে চায়না ও দার্জিলিং জাতের ৩৫০টি কমলা ও ১৫০টি বারি মাল্টা-১ এর চারা রোপণ করেন। গতবছর সামান্য পরিমাণ ফল পেলেও এবারই প্রথম পুরোদমে ফলন পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত মাল্টা ও কমলা প্রতিমণ ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেছেন।
কয়দিন আগেও কমলার গাছগুলোয় থোকায় থোকায় ঝুলে ছিল হলুদ রঙের কমলা। দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না কমলার বাগানটি দেশী না বিদেশী। এখন মৌসুম প্রায় শেষ। তবে এখনো কিছু গাছে কমলা আছে। এই বাগান পরিচর্যার জন্য ১৮ জন কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা নিয়মিত বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। সায়েম নিজেও পরিচর্যার কাজটি করেন।
এছাড়াও পাশর্^বর্তী এলাকায় পাগলা নদীর ওপারে ২ বিঘা জমিতে টমেটো, ৩ বিঘায় আলু, ৩ বিঘায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, ২ বিঘায় পটোল, ১০ কাঠায় বারি বেগুন-১২, ১০ কাঠায় মাচা পদ্ধতিতে সবজি, ১০ বিঘায় নাবী জাতের কাটিমন আম ও ৮ বিঘায় লাগিয়েছেন বারি-৪ আম।
শুক্রবার সকালে কমলা বাগানেই কথা হয় সায়েম আলীর সঙ্গে। তিনি এভাবেই তার সফল কৃষক হয়ে ওঠার গল্প শোনান।
সায়েম বলেন, ২০১০ সালে দুবাইয়ে থাকার সময় ভারতীয়দের মাধ্যমে ভাসাভাসা হিন্দি ভাষা রপ্ত করি। চাষবাস সম্পর্কিত বাংলা ভাষার ইউটিউবগুলোর পাশাপাশি হিন্দি ভাষারগুলোও দেখতাম। মূলত ইউটিউব দেখেই আমি কমলা ও মাল্টা চাষ শুরু করি এবং পরিচর্যাও করি। তবে এ ব্যাপারে কৃষি অফিসের যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি।
সায়েম বলেন, ইউটিউব দেখে কমলা ও মাল্টা চাষ শুরু করি এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে পরিচর্যা করা হয়। তবে অভিজ্ঞতা না থাকায় নাবী কমলাগুলোতে একটু ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সবমিলিয়ে উৎপাদন ভালো হয়েছে। আগামী বছর আরো ভালো হবে বলে আশা করছি।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেনÑ সায়েম আলী শুধু কৃষকই নন, তিনি একজন উদ্যোক্তা। তিনি মিশ্র ফসল চাষ করছেন। কমলা ও মাল্টার পাশাপাশি নাবী জাতের আম কাটিমন ও বারি-৪, বারি বেগুন, টমেটো, আলু, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, পটোল, মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষও করছেন।
ড. সরকার বলেন, চায়না জাতের কমলাটি এই এলাকায় চাষযোগ্য একটি ফল, এর মিষ্টতাও ভালো। এর টিএসএস পাওয়া গেছে ১১। কোনো ফলের টিএসএস ১০-১৩ এর মধ্যে থাকলে তাকে সুমিষ্ট ফল হিসেবে ধরা হয়। কাজেই সায়েমের কমলাকে সুমিষ্ট বলা যাবে। সায়েম আলী একজন সফল উদ্যোক্তা।