কংগ্রেসের ৩৫৭০ কিলোমিটারের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শুরু

5

একের পর এক ব্যর্থতায়, ১৩৫ বছরের ডুবন্ত জাহাজকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টাতেই মরিয়া কংগ্রেস। দলকে নতুন করে শক্তি জোগাতেই গতকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা। ৩৫৭০ কিলোমিটারের এই যাত্রার নেতৃত্ব দেবেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ১৫০ দিন ধরে চলবে এই পদযাত্রা। কন্যাকুমারী থেকে শুরু হয়ে ১২টি রাজ্য এবং দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছুঁয়ে কাশ্মীরে এই পদযাত্রা শেষ হওয়ার কথা। কংগ্রেস সূত্রে, ১৫০ দিনের এই পদযাত্রায় পুরো সময়টাই থাকবেন রাহুল গান্ধী। রাতে ঘুমানোর জন্য তিনি কোনও হোটেলে থাকবেন না। বরং আনানো হয়েছে জাহাজের বিশেষ কন্টেনার। তাদের থাকার জন্য ৬০ টি কন্টেনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে এসি, শোবার বিছানা, টয়লেট।

৫ মাসের এই যাত্রায় আবহাওয়ার গতিপথকে নজরে রেখে বিভিন্ন ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা হাঁটবেন যাত্রীরা। দুটি ভাগে ভাগ করে এই যাত্রা হবে। সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ১০ টা, আর দুপুর ৩.৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬.৩০ মিনিট পর্যন্ত।২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে এই পদযাত্রা, এমনটাই আশা কংগ্রেস নেতাদের। গত মঙ্গলবারই কংগ্রেস নেতারা জানান, এই ভারত জোড়ো যাত্রা ভারতীয় রাজনীতিতে এক পরিবর্তনের মুহূর্ত তৈরি করবে। দলকেও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে এই যাত্রা। কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধেই দেশবাসীকে একজোট করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার ভারত জোড়ো কর্মসূচির আগে রাহুল গান্ধী কন্যাকুমারীর শ্রীপেরুমবুদুরে রাজীব গান্ধী মেমোরিয়ালে প্রার্থনাসভায় যোগ দেবেন। এরপরে তিনি জনসভায় যোগ দেবেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কংগ্রেস নেতা তথা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল সহ একাধিক কংগ্রেস নেতৃত্ব। এ ছাড়া তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ডিএমকে-র প্রধান তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনও।জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান মঞ্চেই এমকে স্ট্যালিন রাহুল গান্ধীকে একটি খাদির তৈরি জাতীয় পতাকা উপহার দেবেন। সেই পতাকাই আবার রাহুল গান্ধী সেবা দলের কর্মীদের হাতে তুলে দেবেন। সেখান থেকে তারা হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রতীরে যাবেন, যেখান থেকে এই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে।

এই পদযাত্রায় দলের অন্তর্বতী সভাপতি সনিয়া গান্ধী উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তিনি ভিডিও বার্তায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিতে পারেন। কেন এই যাত্রা এই প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসের বক্তব্য, বর্তমান শাসক দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করছে। ধর্মী বিভেদ বাড়ছে। কংগ্রেসের যাত্রা দেশকে জোড়ার সংকল্প নিয়ে হবে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই যাত্রার মধ্য দিয়েই কংগ্রেস আগামী নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিতে চাইছে। গত বেশ কয়েকবছরের মধ্যে এই ধরনের পরিকল্পনা কংগ্রেস করেনি। সংসদে বিজেপি বিরোধী জোটের প্রায় সবকটি দল রাহুলকে সমর্থন করেছে।সূত্র: এনডিটিভি, টিভি নাইন