ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে জয় পেল আইরিশ ক্রিকেট দল

3

কোভিডের ছোবলে অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নিসহ ছিটকে গেছেন বেশ কয়েকজন। দলের শক্তি কমে গেলেও মাঠের লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ড দেখাল চমক। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। রান তাড়ায় দারুণ ফিফটি করলেন হ্যারি টেক্টর। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল আইরিশরা। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে আয়ারল্যান্ডের জয় ৫ উইকেটে। জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ২২৯ রানে। ৩৬ ওভারে ১৬৮ রানের নতুন লক্ষ্য আইরিশরা ছুঁয়ে ফেলে ২১ বল বাকি থাকতে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফল হওয়া ১৪ ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডের এটি দ্বিতীয় জয়। প্রথম জয় ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে, নেলসনে ৩০৫ রান তাড়ায় ৪ উইকেটে জিতেছিল তারা। এবারের জয়ের নায়ক ম্যাকব্রাইন বোলিংয়ে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৪৫ বলে করেন ৩৫ রান। ৭৫ বলে ৪ চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন টেক্টর। প্রথম ম্যাচেও ফিফটি করেছিলেন তিনি। স্যাবিনা পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয়েছিল আশা জাগানিয়া। ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ফেলেন শেই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভস।

সেখান থেকে দ্রুতই তাদের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৪২। নিজের টানা তিন ওভারে দুই ওপেনারের সঙ্গে নিকোলাস পুরানকেও ফিরিয়ে দেন ক্রেইগ ইয়াং। আগের ম্যাচে অভিষেকে ৯৩ রানের ইনিংস খেলা শামার ব্রুকস ও রোস্টন চেইস চতুর্থ উইকেটে ৪৮ রানের জুটিতে এগিয়ে নেন দলকে। ম্যাকব্রাইন দুই ওভার মিলিয়ে পরপর দুই বলে চেইস ও কাইরন পোলার্ডকে ফিরিয়ে জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। তা না হলেও ক্যারিবিয়ানরা হারিয়ে ফেলে পথ। ব্রুকস ফেরেন ৬৪ বলে ৪৩ রান করে। মাঝে দ্রুত বিদায় নেন জেসন হোল্ডার। ৩ উইকেটে ৯১ থেকে স্বাগতিকদের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১১১! সেখান থেকে তারা দুইশ পার করতে পারে মূলত নবম উইকেটে রোমারিও শেফার্ড ও ওডিন স্মিথের ২৭ বলে ৫৮ রানের জুটিতে।

মাত্র ১৯ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৪৬ রান করেন স্মিথ। ৪১ বলে ৭ চারে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন শেফার্ড। রান তাড়ায় পাঁচ ওভারে ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে আয়ারল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও দলে ফেরা পল স্টার্লিং। এই ম্যাচের অধিনায়ক স্টার্লিং ১৫ বলে ২১ রান করার পথে আয়ারল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে স্পর্শ করেন ৫ হাজার রানের মাইলফলক। ছক্কার চেষ্টায় পোর্টারফিল্ড ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৯ বলে ২৬ রান করে। ম্যাকব্রাইন তিন নম্বরে নেমে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩৫ রান।

চতুর্থ উইকেটে কার্টিস ক্যাম্পারের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন টেক্টর। ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি ৬৯ বলে। দলের স্কোর ছাড়ায় দেড়শ। এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে ঘন্টা খানেকের বেশি। আইরিশদের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৮। অর্থাৎ তখন ১১ রান দরকার ২৮ বল থেকে। আইরিশদের লাগে কেবল ৭ বল। ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল মূলত গত মঙ্গলবার। কিন্তু আয়ারল্যান্ড দলে চোট সমস্যা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রথমে স্থগিত করা হয় এবং পরে শেষ দুই ওয়ানডের নতুন সূচি ঠিক করা হয়। রোববার হবে শেষ ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৮ ওভারে ২২৯ (হোপ ১৭, গ্রিভস ১০, পুরান ১, ব্রুকস ৪৩, চেইস ১৩, পেলার্ড ১, হোল্ডার ৩, আকিল ১১, শেফার্ড ৫০, স্মিথ ৪৬, জোসেফ ৪*; লিটল ১০-১-৪০-২, অ্যাডায়ার ৯-২-৪২-০, ইয়াং ৮-১-৪২-৩, ম্যাকব্রাইন ১০-২-৩৬-৪, ক্যাম্পার ৮-০-৫৬-০, ডকরেল ৩-০-১১-১)
আয়ারল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৬৮) ৩২.৩ ওভারে ১৬৮/৫ (পোর্টারফিল্ড ২৬, স্টার্লিং ২১, ম্যাকব্রাইন ৩৫, টেক্টর ৫৪*, ক্যাম্পার ১২, ডকরেল ৫ ডেলানি ১*; আকিল ৮-০-৫১-২, হোল্ডার ৭-১-৩৫-০, জোসেফ ৬-১-৩২-০, চেইস ৫-০-১৯-১, স্মিথ ২-০-৮-০, শেফার্ড ৪-০-১২-১, পোলার্ড ০.৩-০-৪-১)
ফল: আয়ারল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন।