এ সপ্তাহের বাজার : রসুন সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে কমেছে ডিম আদা চাল

73

বিপাশা রবি দাস

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বাজারে শুক্রবার ২৮০ টাকার পেঁয়াজ এ সপ্তাহে কমে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিম, আদা, চালের দামও কমেছে। তবে বেড়েছে রসুন ও সয়াবিন তেলের দাম। অন্যদিকে, কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে পাকিস্তানি ও সোনালি মুরগির দাম। মাছবাজারে ইলিশের দাম একটু চড়া। সবজি বাজারে বেড়েছে আলু ও কাঁচমরিচের দাম। কমের তালিকায় রয়েছে টমেটো, মুলা, শিম, শশা, ফুলকপিসহ আরো কিছু শাকসবজির।
মুদি বিক্রেতা সাদিরুল ইসলাম ও শাহালাল আলীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বাজারে এসেছে নতুন পেঁয়াজ। বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তারা। তারা জানান, পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ছিল ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। মাঝে দাম বেড়ে হয়েছিল ২৫০-২৮০ টাকা। আজ (গতকাল) শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সেই সাথে বেড়েছে সয়াবিন তেল ও রসুনের দাম। সয়াবিন তেল গত সপ্তাহে ছিল ৮৪ টাকা কেজি। এ সপ্তাহে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। রূপচাঁদা তেল প্রতি লিটার ৫ টাকা এবং বসুন্ধরাসহ অন্যান্য তেল প্রতি লিটারে ২ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ টাকা। এ সপ্তাহে দাম বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তারা জানান, ডিম, আদা ও চালের দাম কমেছে। ডিম ৩২ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা থেকে কমে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। চালের বস্তা গত সপ্তাহে ছিল ৩ হাজার টাকা। এ সপ্তাহে দাম কমে ২৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকা হয়েছে।
শাহালাল আলী বলেন, “খোলা তেলের দাম প্রতিদিন মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। কেন বাড়ছে আমরা জানি না। আমরা শুনেছি সবকিছু মজুদ আছে তারপরও কেন জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না।”
শীতের প্রসাধন সামগ্রীর দর সম্পর্কে সাদিরুল ইসলাম বলেন, পেট্রলিয়াম জেলি গত বছরে যা দাম ছিল এ বছরেও তাই আছে। তবে লাক্স সাবান ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। হুইল সাবান, ভিম ছোট ও বড় ২ টাকা বেড়ে যথাক্রমে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, ১২ টাকা ও ৩২ টাকায়। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি সাবানের দাম ১ থেকে ২ টাকা করে বেড়েছে।
অন্যদিকে, মাছবাজারে বিক্রেতা মুকুল, মুমতাজুল আলী ও শরিফুল বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশ মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে। ১ কেজির ইলিশ ৯৫০ এবং ৮০০ গ্রামের ইলিশ ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি কম থাকায় বেড়েছে নদীর মাছের দাম।
এদিকে, সবজি বিক্রেতা রশিদ ও বাদশা বলেন, আলু ২৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০-৩২ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা কেজি। এ সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি। টমেটো ছিল ১২০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি। মুলা ছিল ৪০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে ২০-২৫ টাকা কেজি। শিম ছিল ৭০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি। শশা ছিল ১০০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি। ফুলকপি ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কেজি। কুমড়োর জালি ছিল ৩৫ টাকা, এ সপ্তাহে ৩০ টাকা। ধনেপাতা ছিল ৮০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক ছিল ৩০-৩২ টাকা আঁটি এ সপ্তাহে ২৫ টাকা আঁটি। লাল শাক, সাদা শাক, সরিষার শাক ছিল ১০ টাকা আঁটি, এ সপ্তাহে ৬-৭ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ছাড়া বাকি সবজির দাম অপরিবর্তিত আছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা ও খাসির মাংস ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা কমে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি ও সোনালি মুরগি। এবং অন্যান্য মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লাল লেয়ার ১৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৪০ টাকা, দেশী মুরগি ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান রুবেল ও মাসুদ রানা।
মুদি বাজার করতে আসা জয়নুল আবেদীন, ফাহাদ ও নাদীম বলেন, “গত সপ্তাহের তুলনায় আদার দাম কম ছিল। পেঁয়াজের দাম কমলেও এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। পেঁয়াজের দাম এখনো নাগালের বাইরে। যেখানে ২০ টাকা কেজি পেঁয়াজ খেতাম সেখানে ২০০ টাকায় কেনা সমস্যা।”
সবজি ক্রেতা সুমন ও আরিফের সাথে কথা হলে কেউ বলেন সবজির দাম বেশি আবার কেউ বলেন সবজির দাম কম। মুরগি ক্রেতা নিশা বলেন, মুরগির দাম স্বাভাবিক আছে। সোহাগ জানান, মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি।