এসি মিলানকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করলো চেলসি

1

এসি মিলানকে ২-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ-ই’র শীর্ষস্থান দখল করেছে চেলসি। সান সিরোতে কাল দর্শক ঠাসা স্টেডিয়ামে প্রায় পুরোটা সময়ই আধিপত্য দেখিয়েছে সফরকারী চেলসি। ম্যাচের ১৮ মিনিটে ডিফেন্ডার ফিকায়ো টোমোরি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে গেলে বাকিটা সময় মিলানকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়েছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে গ্রাহাম পটারের চেলসি। ম্যাসন মাউন্টকে ফাউলের অপরাধে টোমোরিকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত চেলসিকে ভালই প্রতিরোধ করেছিল ইটালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
হতাশাজনক এই পরাজয়ের পর মিলানের কোচ স্টিফানো পিওলি শান্ত থাকলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘আমি একটি কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি আজ রেফারি তার সেরাটা দিতে পারেনি।’ ফাউল থেকে প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে গোল করে জর্জিনহো চেলসিকে এগিয়ে দেন। বিরতির ১১ মিনিট আগে পিয়েরে এমেরিক-অবামেয়াংয়ের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুন হবার পাশাপাশি চেলসির জয় নিশ্চিত হয়। দিনের আরেক ম্যাচে শীর্ষে থাকা সালজবার্গ ১-১ গোলে ডায়নামো জাগ্রেবের সাথে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে। এই সুযোগে চেলসি পূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে সালজবার্গকে এক পয়েন্টের ব্যবধানে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে। ম্যাচ শেষে চেলসি বস পটার বলেছেন, ‘এই ঘটনাটি ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছিল, মিলান যা করতে চেয়েছিল তারা শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেনি। কিন্তু আমরা নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছি। বিশেষ করে এই ধরনের পরিবেশে ১০ জনের দলের বিপক্ষে খেলাটা কখনই সহজ নয়। লাল কার্ডের ঘটনাটি ম্যাচের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল। আমাদেরও এরপর নিজেদের কৌশল বদলাতে হয়েছে।’ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এটা চেলসির টানা চতুর্থ জয়। অথচ গত সপ্তাহে স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও চেলসির অবস্থা বেগতিক ছিল। ঐ ম্যাচে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে চেলসি এগিয়ে যায়। চেলসির কাছে দুটি টানা পরাজয়ে মিলান বর্তমানে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর প্রথমবারের মত নক আউট পর্বে খেলার স্বপ্ন এখনো ফিকে হয়ে যায়নি।

পিওলির দল নক আউট পর্ব নিশ্চিতে মাত্র দুই পয়েন্ট দুরে রয়েছে। ডায়নামো জাগ্রেব ও সালজবার্গের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। পিওলি বলেন, ‘এখানে কোন প্রশ্ন নেই যে আমার খেলোয়াড়দের মানসিক ভাবে চাঙ্গা করে তুলতে হবে। জাগ্রেবের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজেদের সেরা হিসেবে প্রস্তুত করে তুলতে হবে। আমি সেটা করতে নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।’ রেসি জেমসের থ্রু বলে দারুনভাবে এগিয়ে যাওয়া মাউন্টকে আটকাতে গিয়ে ইংলিশ ডিফেন্ডার টোমোরি যে ফাউল করেছিলেন তাতে রেফারি ড্যানিয়েল সিয়েবার্ট পেনাল্টির নির্দেশ দেন। যা নিয়ে পরবর্তীতে বিতর্ক কম হয়নি। স্বাগতিক সমর্থকরাও এই সিদ্ধান্ত ভালভাবে মেনে নেয়নি। এই ঘটনায় উভয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল। তারই জেড়ে মাউন্ট ও অলিভার গিরুদকে হলুদ কার্ড দিয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়। সান সিরোর দর্শকদের ক্ষোভের মধ্যেই জর্জিনহো তিন মিনিট পর গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন। এই জর্জিনহোর পেনাল্টি মিসের কারনেই আসন্ন বিশ^কাপে খেলা হয়নি ইতালির। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গিরুদ ২৭ মিনিটে গোল প্রাই দিয়েই ফেলেছিলেন। কিন্তু তার হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। অবামেয়াং অবশ্য আর কোন ভুল করেননি। মাউন্টের এ্যাসিস্টে গ্যাবনিজ স্ট্রাইকার অবামেয়াং ঠান্ড মাথায় মিলান গোলরক্ষক সিপিরান টাটারুসানুকে পরাস্ত করেন। দ্বিতীয়ার্ধে উজ্জীবিত সমর্থকদের কারণে মিলান বেশ কিছু সুযোগ তৈরী করলেও তা শেষ পর্যন্ত কাজে লাগাতে পারেনি। ৬০ মিনিটে সার্জিনো ডেস্ট সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করলে মিলানের ম্যাচে ফিরে আসা হয়নি।