এভিয়েশন কান্ট্রি র‌্যাংকিংয়ে ভারত-নেপাল ভুটান থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ

45

বর্তমানে এভিয়েশন কান্ট্রি র‌্যাংকিংয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এগিয়েগেছে বাংলাদেশ। শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোই নয়, এভিয়েশন কান্ট্রি র‌্যাংকিং সূচকে এখন বাংলাদেশের নিচে রয়েছে কাতার (সূচক ৬৭), রাশিয়া (সূচক ৭০), মালয়েশিয়া (সূচক ৭২), ইন্দোনেশিয়া (সূচক ৬৮) এবং কুয়েতের (সূচক ৬৯) মতো এভিয়েশন খাতে অগ্রগামী দেশগুলোও। বর্তমানে এভিয়েশন র‌্যাংকিংয়ে ভারতের সূচক ৭১। আর নেপাল ৬২ ও ভুটানের ৫৭। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) অন্তর্ভুক্ত ১৯২টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৫টির এভিয়েশন কান্ট্রি র‌্যাংকিং সূচক ৭৫-এর বেশি। আর সূচক ৭৭ অতিক্রম করেছে, এমন দেশের সংখ্যা ৩০টির বেশি নয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফ্লাইট নিরাপত্তায় দুর্বলতার কারণ দেখিয়ে ২০০৯ সালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ)। ওই সময় ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হতে কিছু শর্ত দেয়া হয়, যা পূরণে কাজ করছে বেবিচক। তবে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) অডিট প্রতিবেদনে এভিয়েশন কান্ট্রি র‌্যাংকিংয়ে আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। যা বেবিচকের ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা, পেশাদারিত্ব ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার দিক বিবেচনায় আইকাও প্রতিটি দেশেরই এভিয়েশন খাতের একটা র‌্যাংকিং (অবস্থান) করে থাকে। আইকাওর মান অনুযায়ী, কোনো দেশের সূচক ৬০-এর উপর হলে সে দেশের এভিয়েশন খাতকে সন্তোষজনক মানের বিবেচনা করা হয়। ২০১২ সালে করা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫০ দশমিক ২। এখন এটি ৭৭ দশমিক ৪৬-এ উন্নীত হয়েছে। আইকাওর টেকনিক্যাল কমিটির অডিট টিম গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন বেবিচকের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সূত্র জানায়, আইকাওর অডিট প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় বেবিচকের ক্যাটাগরি উন্নয়নের পথ সুগম হলো। শিগগিরই এফএএ টিম পরিদর্শনে আসবে। ওই টিম ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ) পর্যবেক্ষণ করে যদি সন্তুষ্ট হয়ে ভালো যদি প্রতিবেদন দেয়, তাহলে নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। আশা করা হচ্ছে আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যেই ওসব কাক্সিক্ষত ইস্যুর নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। তাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহুল প্রতীক্ষিত নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। মূলত ফ্লাইট নিরাপত্তায় দুর্বলতার কারণে ২০০৯ সালে বেবিচককে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ)। ওই সময় ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হতে কিছু শর্ত দেয়া হয়। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শর্ত হলো- বেবিচকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) অনুযায়ী জনবল নিয়োগ। আর নিজস্ব অর্গানোগ্রামের বিষয়টি ২০১২ সাল থেকে প্রক্রিয়ায় থাকলেও এখনো তা অনুমোদন পায়নি। ফলে ক্যাটাগরি-২-এ থাকায় বেবিচক থেকে অনুমোদন নেয়া সংস্থার উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশকিছু দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাচ্ছে না। একই কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো উড়োজাহাজেরও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। ওই পরিপ্রেক্ষিতে বহুল প্রতীক্ষিত বিমানের নিউইয়র্ক রুটটিতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র আরো জানায়, অপ্রতুল নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণ দেখিয়ে গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশের সাথে আকাশপথে সরাসরি কার্গো (বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পণ্য পরিবহন) পরিবহন স্থগিত করে যুক্তরাজ্য। পরে ওই বছরের ২১ মার্চ পরামর্শ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জনবল প্রশিক্ষণের জন্য দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন অ্যাসিউরড সিকিউরিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে বেবিচক।
এদিকে এভিয়েশন র‌্যাংকিংয়ের উন্নতি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম জানান, দেড় বছর ধরে মান উন্নয়নে কাজ করছে বেবিচক। সম্প্রতি আইকাও অডিট দলকে পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে আইকাও টেকনিক্যাল কমিটির অডিট টিম আসে বাংলাদেশে। তারা ঢাকার সর্বশেষ অবস্থান পর্যবেক্ষণ করার পর যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ৭৭ দশমিক ৪৬।
অন্যদিকে নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর এ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিভিন্ন অনুষঙ্গ যেমন- ইডিএফ, ইডিটি স্থাপনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ইইউ অ্যাম্বাসেডর শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো কমপ্লেক্স সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি লুফতানসা সিকিউরিটি টিম বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে। তারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একইভাবে ইতিহাদ কার্গোর একটি নিরাপত্তা দলের পরিদর্শনেও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অপারেশন সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন এসেছে। ফলে আশা করা যায়, অচিরেই পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাও উঠে যাবে।