এবার শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘হেলবাউন্ড’

7

দারুণ হই-চই ফেলে দেওয়া কোরিয়ান সিরিজ ‘স্কুইড গেম’কে হটিয়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে এবার শীর্ষস্থান দখল করেছেÑ‘হেলবাউন্ড’। আবার সিরিজপ্রেমীদের কাছে ‘মাই নেম’ও এখন ট্রেন্ডে আছে। ট্রেলার আর পোস্টার দেখে মনে হবে হাই বাজেটের কোনও অ্যাকশন থ্রিলার বুঝি। এই ভেবে যদি ‘হেলবাউন্ড’ দেখতে বসেন, তবে মনটা মোড় নেবে অন্যদিকে। মনে করুন, আপনি দৈববাণীতে আপনার মৃত্যুর ফরমান আগেই পেয়ে গেলেন এবং জানতে পারলেন আপনাকে নরকের শাস্তি ভোগ করতে হবে। কেমন লাগবে? ধরা যাক আপনি হয়তো কোনও বড়সড় পাপ করেছিলেনই, যার কারণে তিনটা দানব এসে মর্মান্তিকভাবে আপনার জীবন নিয়ে যাচ্ছে। এটাই হেলবাউন্ড-এর প্রথম সিজনের মূল কাহিনি।

শেষে টুইস্ট আসে তখনই যখন দেখা যায় এক সদ্যজাত শিশুও পেলো একই ফরমান! এদিকে আবার নিউ ট্রুথ নামক এক সংগঠন বলছে মানুষকে সঠিক পথে আনতে ঈশ্বর এগুলো করছেন। আবার অ্যারোহেড নামের একটি উগ্রবাদী সংগঠন বলছে, মানুষকে দেওয়া ঈশ্বরের শাস্তি। কিন্তু ওই দানবেরা কি আদৌ পরলৌকিক কিছু? পাপের পর অপরাধবোধ ও নতুন করে বাঁচার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো ধর্মান্ধতাÑএসব দেখে আবার সিরিজটাকে মনে হবে খানিকটা রূপকের মতোই। তবে আসল ঘটনা কোন দিকে গড়ায় সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে দ্বিতীয় সিজন পর্যন্ত। প্রথম দুই পর্ব খানিকটা ধীরগতিতে এগোলেও এটা আসলে ‘ট্রেইন টু বুসান’ পরিচালক ইয়োন সাং-হোর গল্প বোনারই কৌশল। আবহসংগীত ও সিনেমাটোগ্রাফির কারণে পুরো সিরিজজুড়েই আছে থমথমে পরিবেশ। যেন পুরো পৃথিবীজুড়েই আছে চাপা আতংক।

না জানি কে আবার মৃত্যুর ফরমান পেয়ে বসে। আবার ধর্মান্ধতা মানুষকে কী করে ভয়াবহ করে তুলতে পারে সেটার একটা রূপক উপস্থাপনাটাও চিন্তার খোরাক যোগাবে। মনে হবে, বাস্তবে এমনটাই হচ্ছে না? প্রতিশোধের আগুন মানুষকে কতটা পোড়াতে পারে? অনেক সময় কোনও গোয়েন্দা কাহিনির অর্ধেক পাতা পেরোনোর আগেই আমরা দোষীদের ধরে ফেলি। ‘মাই নেম’ তেমনই একটা সিরিজ। অ্যাকশন সিরিজের ভক্তরা এটি পছন্দ করবেন। কারণ এখানে খুনি কে তা বের করা ‘ডাল-ভাত’। এরপরও পুরো সিরিজটা দেখবেন। কেন? কারণ এর গল্প বলার ভঙ্গি, সিনেমাটোগ্রাফি ও অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি। জিয়ু নামের এক মেয়ে তার ১৭তম জন্মদিনে নিজের বাবাকে চোখের সামনে খুন হতে দেখে।

প্রতিশোধের আগুন তার মাঝে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে সে ওই বয়সেই স্কুল বাদ দিয়ে যোগ দেয় গ্যাংস্টারদের সঙ্গে। সেখানে মারপিট থেকে শুরু করে যাবতীয় অবৈধ কাজ রপ্ত করে ও। গ্যাংয়ের যিনি বস তার মুঠোয় আছে কোরিয়ার সবচেয়ে বড় মাদকের আস্তানা। তিনিই জিয়ুর বাবার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন। যখন জিয়ু বুঝতে পারে এভাবে মাফিয়াদের সঙ্গে থেকে খুনিকে ধরতে চাইলে আইনের বেড়াজালে আটকে পড়বে, তখনই সে পুলিশে যোগ দেয়। সেই সঙ্গে গ্যাংয়ের অবৈধ কাজেও সাহায্য করতে থাকে। কারণ সে নিজেকে গ্যাংয়ের সদস্যও ভাবে। একের পর এক রহস্য সামনে আসতে শুরু করে। অভিনেত্রী হান সো হির দারুণ অভিনয় আপনার মনে দাগ কাটবে। এ ছাড়া বাদবাকি সবার পারফরমেন্স-এর কারণে এ সিরিজও এখন ট্রেন্ডিংয়ে সেরা স্থানে আছে।