এনআইডির সঙ্গে থ্যালাসেমিয়ার তথ্য সংক্রান্ত প্রশ্নে রুল জারি

8

কোনো ব্যক্তি থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি-না বা আছে কি-না ন্যাশনাল আইডি কার্ডের (এনআইডি) সঙ্গে সেটি কেন যুক্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ।
একই সঙ্গে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের বিষয়ে কেন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হবে না; রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। অন্যদিকে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছে। ব্যক্তির শরীরে প্রাণঘাতি থ্যালাসেমিয়া আছে কি না তা শনাক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্রের মধ্যে এ তথ্য কেন যুক্ত করা হবে না; তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট বিভাগ। রুলে ব্যক্তির শরীরে প্রাণঘাতি থ্যালাসেমিয়া আছে কি-না তা শনাক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্রের মধ্যে এ তথ্য যুক্ত করার জন্য বিধি প্রণয়ন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না; তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশন (ইসি), স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ৩১ মে রিটটি দায়ের করেন আইজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। এর আগে ২৫ মে বিষয়টি নিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান তিনি। লিগ্যাল নোটিশে এই রোগের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রে থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কি-না মেডিকেল প্রতিবেদন অনুযায়ী অপশন যুক্ত করতে দাবি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক যদি আরেকজন থ্যালাসেমিয়া বাহককে বিয়ে করেন, তাহলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে একজন সুস্থ মানুষ আরেকজন থ্যালাসেমিয়া বাহককে বিয়ে করতে পারবে কারণ তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার আশঙ্কা ততটা থাকে না।
এই কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রে থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কি-না এ ধরনের অপশন যুক্ত থাকলে তা দেখে সহজেই দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহককে বিয়ে থেকে ঠেকানো সম্ভব। এজন্য বিয়ের আগেই বর এবং কনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেককে জানতে হবে তারা থ্যালাসেমিয়া বাহক কি-না? দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিবাহ বন্ধ করা গেলেই থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী।